বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারির অভিযোগ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শীর্ষ নেতৃত্বের বিরুদ্ধে অর্থ কেলেঙ্কারির গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, যা ঘিরে সংগঠনের ভেতরে তীব্র উত্তেজনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সংগঠনের সভাপতি রিফাত রশিদ, সাংগঠনিক সম্পাদক মঈনুল ইসলাম এবং মুখ্য সমন্বয়ক হাসিব আল ইসলামের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়।

এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সর্বসাধারণকে অবহিত করতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে গতকাল বিকাল ৩টার দিকে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে সারাদেশের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। সংবাদ সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত করার চেষ্টা, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচারণার জন্য প্রাপ্ত সরকারি অনুদানের তথ্য গোপন রাখা এবং সংগঠনের নামে বরাদ্দকৃত অর্থ তছরুপের অভিযোগ তুলে ধরা হয়।

সংগঠনের সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাশরাফি সরকার বলেন, ‘বিগত আওয়ামী লীগ সরকার যদি ফ্যাসিস্ট হয়ে থাকে, তাহলে বৈষম্যবিরোধীর ২৫’র কমিটি সুপার প্রো ফ্যাসিস্ট ছিল।’ তিনি আরও বলেন, এই সংগঠন কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয় এবং এর ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে কর্মী ও অংশীজনরা, কোনো একক গোষ্ঠী নয়।

তিনি অবিলম্বে ফান্ডের উৎস ও ব্যয়ের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ প্রকাশ এবং দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

এদিকে কেন্দ্রীয় মুখপাত্র সিনথিয়া জাহীন আয়েশা অভিযোগ করে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে দেশব্যাপী প্রচারণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও, এই কার্যক্রমে কোন ব্যক্তি, সংগঠন বা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান থেকে অর্থ নেওয়া হয়েছে এবং তা কীভাবে ব্যয় করা হয়েছে—সে তথ্য তার কাছেও গোপন রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, সংগঠনের দায়িত্বশীল হিসেবে প্রতিটি সিদ্ধান্ত, আয়-ব্যয়ের হিসাব জানার অধিকার তার রয়েছে। কিন্তু বারবার জবাবদিহিতা চাওয়া হলেও বিষয়টি অস্বীকার করা হয়েছে এবং উল্টো বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে।

সিনথিয়া আরও জানান, বারবার প্রশ্ন তোলার পর গত ১২ এপ্রিল একটি বৈঠক ডাকা হয়, যেখানে ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপনের আগে উপস্থিত সবার ফোন জমা নেওয়া হয়, যাতে কোনো প্রমাণ সংরক্ষণ করা না যায়। ওই বৈঠকেই স্বীকার করা হয় যে, একটি ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে অন্তত ১ কোটি টাকা সংগ্রহ করা হয়েছে।

সংগঠনের কর্মসূচির জন্য গোপনে অর্থ গ্রহণ এবং কেন্দ্রীয় কমিটিকে অন্ধকারে রাখার অভিযোগ তুলে তিনি প্রশ্ন করেন—এই অর্থের স্বচ্ছ হিসাব কোথায় এবং কেন তা প্রকাশ করা হচ্ছে না।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *