বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণে নতুন উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে পাকিস্তান। দেশটি শিগগিরই ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডর’ কর্মসূচির দ্বিতীয় ধাপ চালু করতে যাচ্ছে, যার আওতায় ৫০০টি স্কলারশিপ বা বৃত্তি দেওয়া হবে।
বুধবার এ তথ্য জানিয়েছে পাকিস্তান হাইকমিশন (Pakistan High Commission in Bangladesh)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তাদের ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
এর আগে গত বছর ইসলামাবাদ থেকে ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডর’ উদ্যোগ চালুর কথা জানানো হয়েছিল। এই কর্মসূচির আওতায় পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নের জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের ৫০০টি বৃত্তি দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা গত ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তানে পৌঁছে তাদের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করেছে।
হাইকমিশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দ্বিতীয় ধাপে পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে পড়াশোনার সুযোগ পাবে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য শিক্ষা, গবেষণা এবং উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করা।
দীর্ঘদিনের তিক্ত অতীত পেছনে ফেলে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক ধীরে ধীরে নতুন পথে এগোচ্ছে। বিশেষ করে ২০২৪ সালের পর থেকে এই সম্পর্কের উন্নয়নের গতি কিছুটা দৃশ্যমান হয়েছে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট দীর্ঘ সময় ধরে দুই দেশের সম্পর্কে প্রভাব ফেললেও এখন তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে।
এই সম্পর্ক উন্নয়নের প্রভাব অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও পড়তে শুরু করেছে। গত ফেব্রুয়ারিতে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস (Biman Bangladesh Airlines)-এর একটি ফ্লাইট পাকিস্তানের করাচিতে অবতরণ করে, যা ২০১২ সালের পর দুই দেশের মধ্যে প্রথম নিয়মিত ফ্লাইট হিসেবে বিবেচিত হয়।
এছাড়া ২০২৪ সালের শেষদিকে দুই দেশের মধ্যে সমুদ্রপথে বাণিজ্য চালু হয় এবং পরবর্তীতে সরকার-টু-সরকার বাণিজ্য সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। একই ধারাবাহিকতায় গত বছরের আগস্টে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার (Ishaq Dar) বাংলাদেশ সফর করেন। সফরকালে তিনি দুই দেশের মধ্যে অর্থনীতি, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আলোচনা করেন।


