ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সংরক্ষিত নারী আসনের চূড়ান্ত তালিকায় জায়গা না পাওয়া নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন বিএনপির পরিচিত মুখ ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া। দলীয় মনোনয়ন থেকে বঞ্চিত হওয়ার পর শনিবার (২৫ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক আবেগময় স্ট্যাটাসের মাধ্যমে নিজের অবস্থান ও অনুভূতির কথা প্রকাশ করেন তিনি।
এর আগে সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP) যে ৩৬ সদস্যের তালিকা প্রকাশ করে, সেখানে পাপিয়ার নাম না থাকায় রাজনৈতিক মহলে তৈরি হয় নানা আলোচনা ও জল্পনা। নবম জাতীয় সংসদের সাবেক এই সদস্য এবারের নির্বাচনেও মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, ফলে তালিকা থেকে তাঁর অনুপস্থিতি অনেকের কাছেই বিস্ময়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
নিজের ফেসবুক পোস্টে পাপিয়া ফিরে যান তাঁর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের শুরুর দিকে। তিনি লিখেছেন, তাঁর রাজনীতি কোনো ক্ষণস্থায়ী পদ বা ব্যক্তিগত স্বার্থের ওপর দাঁড়িয়ে নয়। স্কুলজীবনে ছাত্রদলের প্রাথমিক সদস্য হিসেবে যে যাত্রা শুরু হয়েছিল, সেটি আজ তাঁর অস্তিত্বের অবিচ্ছেদ্য অংশ। বহু বছরের ত্যাগ, সংগ্রাম আর অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি দৃঢ় কণ্ঠে জানান, কোনো পরিস্থিতিই তাঁর আদর্শকে নড়বড়ে করতে পারবে না।
দলের প্রতি নিজের অটল আনুগত্য প্রকাশ করতে গিয়ে পাপিয়া লিখেছেন, “বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া (Khaleda Zia)-এর প্রতি আমার ভালোবাসা এতটা ঠুনকো নয় যে সামান্য আঘাতে তা মুছে যাবে। রাজনীতিতে মান-অভিমান কিংবা পরিস্থিতির কারণে কষ্ট থাকতে পারে, কিন্তু আদর্শের জায়গায় আমি কোনোদিন আপস করিনি, করবও না।”
নিজের অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, তাঁর রাজনৈতিক জন্ম বিএনপিতে, আর এই দলের পতাকাতলেই তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করতে চান। দলের বাইরে যাওয়ার কোনো সুযোগ বা চিন্তা তাঁর নেই—এ কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন তিনি।
এদিকে, পাপিয়ার মতো অভিজ্ঞ নেত্রীর মনোনয়ন না পাওয়া নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ হতাশা প্রকাশ করেছেন, আবার কেউ দলের সিদ্ধান্তকে মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, পাপিয়ার এই বক্তব্য তাঁর রাজনৈতিক পরিপক্বতা এবং দলের প্রতি অটুট আস্থারই প্রতিফলন।


