নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার ওপর হামলা এবং তার ব্যক্তিগত গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এই ঘটনার জেরে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে বিএনপি ও ছাত্রদলের তিন নেতাকে বহিষ্কারের মতো কঠোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট দলগুলোর কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব।
রবিবার (২৬ এপ্রিল) পৃথক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP) কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সন্ত্রাস, সহিংসতা এবং দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগের প্রেক্ষিতে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইশতিয়াক আহম্মেদ বাবুকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী (Ruhul Kabir Rizvi) স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় এবং সাংগঠনিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (Bangladesh Jatiyatabadi Chhatra Dal) কেন্দ্রীয় সংসদের পৃথক এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, সুনির্দিষ্ট সাংগঠনিক শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে পূর্বধলা উপজেলা ছাত্রদলের সদস্য সচিব সাজু আহম্মেদকে তার পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। একই সঙ্গে সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সোলায়মান কবিরকেও প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে অপসারণ করা হয়েছে।
ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির এই সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেন। শুধু বহিষ্কারেই থেমে থাকেনি সংগঠনটি; বরং সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে—বহিষ্কৃতদের সঙ্গে কোনো ধরনের সাংগঠনিক যোগাযোগ বা সম্পর্ক রাখা যাবে না।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি নেত্রকোনা-৫ (Netrokona-5) আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা (Masum Mostofa)-র ওপর হামলা এবং তার গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়ে দলীয় ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়া এবং শৃঙ্খলা ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়ায় কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব দ্রুত এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে।


