বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান (Dr. Shafiqur Rahman) স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন, অসৎ ব্যক্তিদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া উচিত নয়—এমনকি তিনি নিজেও যদি সেই দোষে দুষ্ট হন, তবুও তাকে রেহাই না দেওয়ার আহ্বান জানান।
গত বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন বিষয়ে আলোচনা (বিধি-৬৮) অংশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি এই অবস্থান তুলে ধরেন। বক্তব্যে তিনি বলেন, কিছু অসৎ মানুষ সবসময় পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করে। তারা ব্যক্তি বা দলের স্বার্থ নয়, নিজেদের সুবিধাকেই প্রাধান্য দেয়। “আমি যদি সেই দলে পড়ে যাই, তাহলে আমাকেও ছাড় দেবেন না। বরং জাতির স্বার্থে আরও জোরালোভাবে ধরুন, এক্সপোজ করুন”—এভাবেই নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন তিনি।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-এর এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, অসৎ ব্যক্তিদের কোনো নির্দিষ্ট দলীয় পরিচয় থাকতে পারে না। তারা যেকোনো দলে ঢুকে সুযোগ নেয় এবং সংকটময় সময়ে কৃত্রিম সমস্যা সৃষ্টি করে নিজেদের ফায়দা লুটতে চায়। তার ভাষায়, এরা মূলত সুবিধাবাদী—দল বিপদে পড়লে সবার আগে সরে পড়ে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এ ধরনের সুযোগসন্ধানীদের কোনোভাবেই প্রশ্রয় দেওয়া উচিত নয়। বরং দল ও রাষ্ট্রের স্বার্থে তাদের চিহ্নিত করে কঠোরভাবে প্রতিরোধ গড়ে তোলা প্রয়োজন।
সংসদে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতার বিষয়টিও বিশেষভাবে তুলে ধরেন বিরোধীদলীয় নেতা। তিনি বলেন, সংসদে উচ্চারিত প্রতিটি কথা শুধু সংসদকক্ষেই সীমাবদ্ধ থাকে না; তা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে। ফলে প্রতিটি বক্তব্য হতে হবে তথ্যনির্ভর, সত্যনিষ্ঠ এবং ধারাবাহিক।
তার মতে, “আজ এক কথা, কাল আরেক কথা বললে জনগণ আমাদের ওপর আস্থা হারাবে।” এই আস্থা ধরে রাখতে হলে রাজনৈতিক নেতাদের কথাবার্তায় সততা ও সামঞ্জস্য বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি বলেও তিনি উল্লেখ করেন।


