দেশের দীর্ঘ প্রতীক্ষিত জ্বালানি প্রকল্প রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র–এর প্রথম ইউনিটে রিঅ্যাক্টরে ফুয়েল লোডিং কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পরমাণু শক্তি সংস্থা রোসাটম এবং বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন-এর শীর্ষ কর্মকর্তারা।
উদ্বোধনী বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, এই প্রকল্প কেবল একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র নয়, বরং দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি চর্চাকে নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেওয়ার এক বাস্তব উদাহরণ। পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করার যে প্রতিশ্রুতি সরকার নির্বাচনী ইশতেহারে দিয়েছিল, তার দৃশ্যমান প্রতিফলনও এই উদ্যোগ।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে রূপপুর প্রকল্পে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই নিশ্চয়তা দেশের জনগণের আস্থা বাড়াবে এবং ভবিষ্যৎ জ্বালানি পরিকল্পনায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।
প্রথম ইউনিটে ফুয়েল লোডিংয়ের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্বের ৩৩তম দেশ হিসেবে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদনের যুগে প্রবেশ করল—যা দেশের জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রকল্প সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত পরিকল্পনা অনুযায়ী জ্বালানি লোডিং শেষ হওয়ার প্রায় তিন মাসের মধ্যেই পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হতে পারে। প্রাথমিকভাবে প্রায় ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তীতে ধাপে ধাপে উৎপাদন বাড়িয়ে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


