ভোটার নিবন্ধনে এসএসসি সনদ বাধ্যতামূলক, ইসির নতুন নির্দেশনা

ভোটার নিবন্ধন প্রক্রিয়ায় তথ্যের নির্ভুলতা নিশ্চিত করতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এখন থেকে নিবন্ধনের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রে এসএসসি ও সমমানের সনদ ডাটাবেজে বাধ্যতামূলকভাবে সংযুক্ত করতে হবে।

বুধবার (২৯ এপ্রিল) কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগের পরিচালক (অপারেশন্স) মো. সাইফুল ইসলাম (Md. Saiful Islam) স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়। দেশের সব উপজেলা ও থানা নির্বাচন রেজিস্ট্রেশন অফিসারদের উদ্দেশ্যে পাঠানো এ নির্দেশনায় বিষয়টি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়, ভোটার নিবন্ধনের পরবর্তী সময়ে বিশেষ করে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের আবেদন নিষ্পত্তির ক্ষেত্রে সঠিক তথ্য যাচাই একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। বিশেষ করে জন্ম তারিখের নির্ভুলতা নির্ধারণে এসএসসি ও সমমানের সনদ, নিবন্ধন ফরম এবং জন্ম সনদ যাচাই অপরিহার্য হয়ে ওঠে।

তবে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রে আবেদনকারীর শিক্ষাগত যোগ্যতা মাধ্যমিক বা তার ঊর্ধ্বে হলেও সংশ্লিষ্ট কিছু উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিস থেকে এসএসসি ও সমমানের সনদ ডাটাবেজে সংযুক্ত করা হচ্ছে না। এর ফলে জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের সময় সনদ যাচাই করা সম্ভব হয় না এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে জটিলতা তৈরি হয়।

নির্দেশনায় আরও উল্লেখ করা হয়, কিছু ক্ষেত্রে প্রুফ কপি থাকা সত্ত্বেও আবেদনকারী তার শিক্ষাগত যোগ্যতা অস্বীকার করেন। এতে করে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও আবেদনকারীর মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়, যা নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তির জন্য ক্ষতিকর হয়ে দাঁড়াচ্ছে।

এই পরিস্থিতি এড়াতে কমিশন নির্দেশ দিয়েছে—যদি কোনো নিবন্ধিত ব্যক্তি মাধ্যমিক বা তদূর্ধ্ব পাস হন, তাহলে নিবন্ধনের সময় সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন অফিসার এবং উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসারকে অবশ্যই এসএসসি ও সমমানের সনদ (জন্ম তারিখসহ) ডাটাবেজে সংযুক্ত করতে হবে।

এছাড়া, যদি কোনো ব্যক্তি উচ্চ মাধ্যমিক, স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল বা পিএইচডি ডিগ্রিধারী হন, তবুও তার এসএসসি ও সমমানের সনদ বাধ্যতামূলকভাবে সংযুক্ত করতে হবে। শুধু তাই নয়, এসএসসি সনদসহ সর্বোচ্চ শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ, নিবন্ধন ফরম, জন্ম সনদ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হার্ড কপি আকারে সংশ্লিষ্ট অফিসে সংরক্ষণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এ নির্দেশনার যথাযথ বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে জেলা নির্বাচন অফিসার ও আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তাদের নিয়মিত অফিস পরিদর্শনের পাশাপাশি দ্বৈবচয়ন পদ্ধতিতে মনিটরিং কার্যক্রম চালানোর কথাও বলা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *