সংরক্ষিত নারী আসনে ধন-সম্পদের প্রাধান্য, নির্বাচিতদের ৬৫ শতাংশ কোটিপতি

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের আর্থিক ও শিক্ষাগত প্রোফাইল ঘিরে নতুন এক চিত্র তুলে ধরেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (Transparency International Bangladesh – TIB)। সংস্থাটির বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, এই আসনে নির্বাচিতদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশই কোটিপতি এবং অধিকাংশই উচ্চশিক্ষিত।

সংখ্যার বিচারে, মোট ৪৯ জন নির্বাচিত প্রতিনিধির মধ্যে ৩২ জনই কোটিপতি, যা শতকরা হিসেবে ৬৫ দশমিক ৩১ শতাংশ। একইসঙ্গে ৬৩ শতাংশেরও বেশি প্রতিনিধির শিক্ষাগত যোগ্যতা স্নাতকোত্তর বা তার ওপরে। এই তথ্য শুধু একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং সংরক্ষিত নারী আসনের সামাজিক-অর্থনৈতিক বাস্তবতার একটি প্রতিফলন হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

টিআইবির হলফনামা বিশ্লেষণে আরও উঠে এসেছে, কোটিপতি হিসেবে চিহ্নিতদের মধ্যে ২৫ জন অস্থাবর সম্পত্তির ভিত্তিতে এবং ১৪ জন স্থাবর সম্পত্তির ভিত্তিতে এই তালিকায় পড়েছেন। অর্থাৎ, সম্পদের বিস্তৃতি শুধু একদিকে সীমাবদ্ধ নয়—উভয় ক্ষেত্রেই দৃশ্যমান।

গত বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাতে প্রকাশিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরে সংস্থাটি। সেখানে দলীয় ভিত্তিতেও কোটিপতি প্রতিনিধিদের একটি স্পষ্ট চিত্র পাওয়া যায়। বিশ্লেষণে দেখা যায়, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (Bangladesh Nationalist Party – BNP)-এর ৩৬ জন প্রতিনিধির মধ্যে ২৬ জনই কোটিপতি, যা ৭২ দশমিক ২২ শতাংশ। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)-এর নয়জনের মধ্যে পাঁচজন (৫৬ শতাংশ) কোটিপতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছেন। এছাড়া জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (JAGPA)-এর একজন প্রতিনিধি রয়েছেন, তিনিও কোটিপতি।

আয়ের দিক থেকেও একটি পার্থক্য স্পষ্ট হয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের মধ্যে ৩৮ দশমিক ৭৮ শতাংশের বার্ষিক আয় ১০ লাখ টাকার বেশি। তুলনায়, সরাসরি ভোটে নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের ক্ষেত্রে এই হার ৬৭ দশমিক ৯ শতাংশ। তবে সামগ্রিকভাবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সব সদস্য—সরাসরি নির্বাচিত ও সংরক্ষিত নারী আসন মিলিয়ে—মোট ২৬৯ জন কোটিপতি, যা শতকরা হিসেবে ৭৭ দশমিক ৩ শতাংশ।

শিক্ষাগত যোগ্যতার ক্ষেত্রেও সংরক্ষিত নারী আসনের প্রতিনিধিরা এগিয়ে রয়েছেন। টিআইবির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই আসনের ৬৩ দশমিক ৩ শতাংশ প্রতিনিধি স্নাতকোত্তর বা তদূর্ধ্ব ডিগ্রিধারী, যেখানে সরাসরি নির্বাচিত সদস্যদের মধ্যে এই হার ৫০ দশমিক ৭ শতাংশ। সামগ্রিকভাবে সংসদের সব সদস্যের মধ্যে ৫২ দশমিক ৬৩ শতাংশেরই স্নাতকোত্তর বা তার ওপরে ডিগ্রি রয়েছে।

অন্যদিকে, সংরক্ষিত নারী আসনের প্রতিনিধিদের মধ্যে ২৭ শতাংশ স্নাতক, ৪ দশমিক ১ শতাংশ উচ্চ মাধ্যমিক পাশ, ৪ দশমিক ১ শতাংশ স্বশিক্ষিত এবং ২ দশমিক ১ শতাংশ মাধ্যমিক পাশ।

এর আগে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় নির্বাচন কমিশন (Election Commission – EC) সংরক্ষিত নারী আসনের ৪৯ জনকে বিজয়ী ঘোষণা করে গেজেট প্রকাশ করে, যার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে এই প্রতিনিধিদের সংসদে অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হয়।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *