আসন্ন জাতীয় বাজেটকে সামনে রেখে সরকারি চাকরিজীবীদের বহুল আলোচিত ‘নবম পে স্কেল’ দ্রুত বাস্তবায়নের দাবিতে আবারও সরব হয়েছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন। গেজেট প্রকাশের মাধ্যমে স্কেল কার্যকর করার দাবিতে রাজধানীতে কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনাসভার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী কল্যাণ সমিতি কেন্দ্রীয় কমিটি (Bangladesh Government Officers Employees Welfare Association Central Committee)। সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মে মাসজুড়ে বিভিন্ন জেলায় ধারাবাহিক কর্মসূচির মাধ্যমে সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হবে।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে, ‘নবম পে স্কেল’ ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের একটি সুপারিশ ইতোমধ্যে তিন বেতন কমিশনের প্রতিবেদন পুনর্গঠনের মাধ্যমে গঠিত কমিটি প্রণয়ন করেছে। এই সুপারিশ বাস্তবায়নের সম্ভাব্য সময় হিসেবে আগামী পহেলা জুলাইয়ের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে জানা গেছে অর্থ মন্ত্রণালয় (Ministry of Finance)–এর সংশ্লিষ্ট সূত্রে।
শনিবার (০২ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সমিতির আহ্বায়ক আবদুল মালেক জানান, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবির বাস্তবায়নে সরকারকে উদ্বুদ্ধ করতে শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এ সমাবেশ ও আলোচনাসভা আয়োজন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ৮ মে পটুয়াখালী এবং ৯ মে খুলনায় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনাসভা অনুষ্ঠিত হবে।
পরবর্তীতে ১৬ মে ঢাকায় জাতীয় প্রেস ক্লাবে (National Press Club) কেন্দ্রীয় প্রতিনিধি সমাবেশ ও আলোচনাসভার আয়োজন করা হয়েছে। সংগঠনটির নেতারা মনে করছেন, এসব কর্মসূচি সরকারি কর্মচারীদের ন্যায্য দাবি বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
সংগঠনটির দাবি, গত ১১ বছরে দুটি পে স্কেল কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও নতুন কোনো পে স্কেল বাস্তবায়ন হয়নি। ফলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডভুক্ত কর্মচারীরা চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। অনেকেই ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছেন এবং মাস শেষে বেতন দিয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। তাদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ১০ থেকে ১৫ দিনের বেশি স্বাভাবিক ব্যয় নির্বাহ করা সম্ভব হচ্ছে না।
এই অবস্থায় সংগঠনটির পক্ষ থেকে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, আসন্ন ২০২৬–২৭ অর্থবছরের বাজেটে নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের জন্য পর্যাপ্ত বরাদ্দ না রাখা হলে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ বাড়তে পারে। প্রায় ২২ লাখ সরকারি কর্মচারীর জীবনমান উন্নয়ন দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হলেও দীর্ঘদিন ধরে তাদের বেতন কাঠামোতে কার্যকর পরিবর্তন আসেনি বলে দাবি করা হচ্ছে।
অন্যদিকে, সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, জীবনযাত্রার ব্যয়, মুদ্রাস্ফীতি এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য গঠিত কমিটি ইতোমধ্যে তাদের সুপারিশ জমা দিয়েছে। সুপারিশে আর্থিক চাপ সামাল দিতে নবম পে স্কেল ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এর মধ্যে মূল বেতন বৃদ্ধির প্রথম ধাপ আগামী জুলাই থেকেই কার্যকর হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে।
এ নিয়ে সরকারি মহলে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না এলেও বাজেট ঘনিয়ে আসায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও প্রত্যাশা দুটোই বাড়ছে।


