রাজধানীর ঐতিহাসিক ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন (Osmani Smriti Milonayoton)-এ চার দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন (DC Conference)-এর উদ্বোধনী দিনে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বার্তা দিলেন তারেক রহমান (Tareque Rahman)। রবিবার (৩ মে) সকাল সাড়ে ১০টায় শুরু হওয়া এই সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন, যেখানে দেশের প্রশাসনিক কাঠামো, নির্বাচন ব্যবস্থা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার নানাবিধ বাস্তবতা নিয়ে বিস্তারিত দিকনির্দেশনা তুলে ধরা হয়।
নির্বাচনের প্রসঙ্গ ও প্রশাসনের ভূমিকা
তিনি বক্তব্যের শুরুতেই জাতীয় নির্বাচন (১২ ফেব্রুয়ারি)-এর কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায় প্রতিফলিত করা সম্ভব হয়েছে, আর সেই প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জনপ্রশাসনের কর্মকর্তাদের পেশাদারিত্বের প্রশংসা করেন এবং অতীতের নির্বাচন ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানান।
জনপ্রশাসনের পেশাদারিত্ব নিয়ে বার্তা
বক্তব্যে তিনি জনপ্রশাসন (Public Administration)-এর কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, প্রতিটি পদই রাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং কোনো পদকেই ছোট করে দেখার সুযোগ নেই। শুধুমাত্র পছন্দের জায়গায় পদায়নের মানসিকতা প্রশাসনের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতাকে ক্ষতিগ্রস্ত করে—এমন মন্তব্যও করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্রের প্রয়োজনে যেকোনো স্থানে দায়িত্ব পালনের মানসিকতা গড়ে তোলা জরুরি। কোনো পদই স্থায়ী নয়—এই বাস্তবতা মেনে পেশাদার আচরণ বজায় রাখার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
রাষ্ট্র ও জনগণের প্রত্যাশা
তারেক রহমান বলেন, জনগণ একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমূলক রাষ্ট্র চায়। প্রশাসনের প্রতিটি স্তরই সরকারের নীতি বাস্তবায়নের প্রধান সেতুবন্ধন হিসেবে কাজ করে। বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের ভূমিকা এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি দেশের অর্থনীতি, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে চ্যালেঞ্জিং হিসেবে তুলে ধরেন এবং বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে লুটপাট ও দুর্নীতির কারণে রাষ্ট্রীয় কাঠামো দুর্বল হয়েছে, যা পুনর্গঠনের চেষ্টা চলছে।
উন্নয়ন ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি
বক্তব্যে তিনি কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, স্পোর্টস কার্ড এবং ধর্মীয় ব্যক্তিদের ভাতা প্রদানের মতো সামাজিক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন। এছাড়া সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী সম্প্রসারণের মাধ্যমে সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে রাষ্ট্রীয় সুরক্ষার আওতায় আনার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।
তিনি আরও জানান, খাল খনন ও পুনঃখননের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বাজার, আইনশৃঙ্খলা ও প্রশাসনিক দায়িত্ব
বাজার নিয়ন্ত্রণ, দ্রব্যমূল্য স্থিতিশীল রাখা এবং কৃষকের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার ওপর তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। পাশাপাশি মোবাইল কোর্ট কার্যক্রম জোরদার, মাদক নিয়ন্ত্রণ, নারী ও শিশু সুরক্ষা, এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, সরকারি সেবাকে হয়রানিমুক্ত করা এবং জনগণের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা প্রশাসনের মৌলিক দায়িত্ব।
প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎ প্রশাসন
চতুর্থ শিল্প বিপ্লব ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে প্রশাসনকে আরও দক্ষ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার আহ্বান জানান তিনি। সরকারি কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, দ্রুততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার ওপরও জোর দেন।


