বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার সাম্প্রতিক বৈঠকটি কেবল একটি আনুষ্ঠানিক বিদায়ী সাক্ষাৎ ছিল না—এটি হয়ে উঠেছে দুই দেশের চলমান সম্পর্ক ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনার এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনার মঞ্চ। আলোচনায় উঠে এসেছে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অগ্রগতি, নতুন সম্ভাবনা এবং পারস্পরিক সহযোগিতার প্রসার নিয়ে সুস্পষ্ট আশাবাদ।
ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন (Indian High Commission) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, সোমবার (৪ এপ্রিল) রাজধানীর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Foreign Affairs)-এ এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের ড. খলিলুর রহমান (Dr. Khalilur Rahman) এবং ভারতের প্রতিনিধি প্রণয় ভার্মা (Pranay Verma)।
বৈঠকের আলোচনায় উভয় পক্ষ সাম্প্রতিক সময়ে অর্জিত দ্বিপাক্ষিক অগ্রগতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত পর্যালোচনা করেন। শুধু অতীত অর্জন নয়, ভবিষ্যতের দিকনির্দেশনাও ছিল আলোচনার কেন্দ্রে। দুই দেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সক্ষমতা এবং জনগণের প্রত্যাশার ভিত্তিতে অংশীদারিত্ব আরও শক্তিশালী হবে বলে তারা দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন।
বিদায়ী হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মা বলেন, উন্নয়ন অগ্রাধিকারের ক্ষেত্রে সমন্বয় বজায় রেখে এবং পারস্পরিক স্বার্থের ভিত্তিতে ভারত বাংলাদেশ সরকারের পাশাপাশি জনগণের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী। তার এই বক্তব্যে স্পষ্ট হয়, সম্পর্কের ভিত্তি কেবল কূটনৈতিক স্তরে সীমাবদ্ধ নয়—বরং তা বিস্তৃত জনসম্পৃক্ত সহযোগিতার দিকে এগোচ্ছে।
অন্যদিকে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান তার মেয়াদকালে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করতে প্রণয় ভার্মার অবদানের প্রশংসা করেন। তিনি তার নতুন দায়িত্বে সাফল্য কামনা করেন, যা এক ধরনের কূটনৈতিক সৌজন্যের পাশাপাশি পারস্পরিক শ্রদ্ধার প্রতিফলন।
প্রণয় ভার্মাও তার বক্তব্যে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা এবং দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নে ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। এই পারস্পরিক ধন্যবাদ ও শুভকামনা বিনিময়ের মধ্য দিয়ে বৈঠকটি শেষ হলেও, আলোচনায় উঠে আসা বার্তা স্পষ্ট—বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আগামী দিনগুলোতে আরও বিস্তৃত ও গভীর হতে যাচ্ছে।


