স্মার্ট প্রাথমিক শিক্ষা গড়তে ১৩ উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারের অগ্রযাত্রা: ববি হাজ্জাজ

দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ, আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও আনন্দমুখর শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ (Bobi Hajjaj)। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান নেতৃত্বের অধীনে একটি যুগোপযোগী, অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং প্রযুক্তিসমৃদ্ধ স্মার্ট প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

মঙ্গলবার (৫ মে) সকালে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (Directorate of Primary Education)-এর সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক গুরুত্বপূর্ণ পর্যালোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। সভাটি ছিল অধিদপ্তরের অধীন নতুন উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ নিয়ে, যেখানে ভবিষ্যৎ শিক্ষার কাঠামো নিয়ে বিস্তৃত আলোচনা হয়।

সভায় জানানো হয়, প্রাথমিক শিক্ষার সার্বিক উন্নয়ন ও আধুনিকায়নের লক্ষ্য সামনে রেখে ১৩টি নতুন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে এসব প্রকল্প সরকারের ‘সবুজ পাতায়’ অন্তর্ভুক্ত হয়েছে, যা বাস্তবায়নের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

এই প্রকল্পগুলোর মধ্যে রয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় উন্নয়ন, ১১টি সিটি কর্পোরেশনে মডেল স্কুলের অবকাঠামো উন্নয়ন, জরাজীর্ণ বিদ্যালয় সংস্কার, খেলার মাঠ উন্নয়ন এবং প্রাক-প্রাথমিক শ্রেণিকক্ষ সজ্জিতকরণ। পাশাপাশি দ্বিতীয় পর্যায়ের মিড-ডে মিল প্রকল্প, নেক্সটজেন প্রাইমারি এডুকেশন প্রোগ্রাম এবং পার্বত্য অঞ্চলের বিদ্যুৎবিহীন বিদ্যালয়ে সৌরবিদ্যুতায়ন উদ্যোগও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

এছাড়া সারা দেশে পিটিআই-এর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং ইউনিয়ন পর্যায়ে মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন ও উন্নয়ন প্রকল্পও এই তালিকায় যুক্ত হয়েছে, যা গ্রামীণ শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সভায় প্রতিমন্ত্রী ‘প্রাইমারি এডুকেশন ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম’ বা পিইডিপি-৫ (Primary Education Development Program)-এর ওপর বিস্তারিত আলোকপাত করেন। তিনি একটি সমন্বিত ডিজিটাল এডুকেশন ইকোসিস্টেম গড়ে তোলার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর হবে।

তার ভাষায়, লার্নিং ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (এলএমএস), স্মার্ট অ্যাসেসমেন্ট এবং স্কুল ব্যবস্থাপনা—সবকিছুই একটি একক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আওতায় আনা হবে, যা শিক্ষাব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করে তুলবে।

ববি হাজ্জাজ আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে মৌলিক সাক্ষরতা ও সংখ্যাজ্ঞান উন্নয়নে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ভাষা শিক্ষার ক্ষেত্রেও পাঠ অনুধাবন, শ্রবণ এবং কথোপকথন দক্ষতা বৃদ্ধিতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের বাস্তব দক্ষতা অর্জনে সহায়ক হবে।

প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং নির্ধারিত সময়সীমা মেনে চলার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেন।

অনুষ্ঠানে মো. মোখলেছুর রহমান (Md. Mokhlesur Rahman), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এবং শাহীনা ফেরদৌসী (Shahina Ferdousi), প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা প্রকল্প বাস্তবায়ন কৌশল ও মনিটরিং ব্যবস্থা নিয়ে তাদের মতামত তুলে ধরেন, যা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *