তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন (Zahir Uddin Swapan) এমপি মন্তব্য করেছেন, বর্তমান সময়ে পেশাদার সাংবাদিকতা ক্রমশ চাপে পড়ে যাচ্ছে অসৎ ও নামমাত্র সাংবাদিকদের দৌরাত্ম্যে। তিনি বলেন, ব্ল্যাকমেইলিংয়ের প্রবণতা বাড়ায় প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকরা হারিয়ে যেতে বসেছেন, এমনকি অনেকেই পেশাগত নিরাপত্তাহীনতায় পড়ছেন।
মঙ্গলবার (৫ মে) সন্ধ্যায় মুন্সীগঞ্জ প্রেসক্লাব (Munshiganj Press Club)-এর নবনির্বাচিত কমিটির অভিষেক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয় জেলা শিল্পকলা একাডেমী (District Shilpakala Academy)-তে।
মন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যমের অন্যতম শক্তি হলো সমাজ ও রাষ্ট্রকে প্রশ্ন করার ক্ষমতা। এই ক্ষমতাই গণমাধ্যমের আসল দক্ষতা। কিন্তু যখন এই প্রশ্ন তোলার অধিকারকে কেউ ব্ল্যাকমেইলিংয়ের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চায়, তখন পুরো পেশাদার সাংবাদিক সমাজই বিপদের মুখে পড়ে যায়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, সৎ সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অসৎ সাংবাদিকতার হাত থেকে সমাজকে রক্ষা করা এখন সময়ের দাবি।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, তথ্য ও সাংবাদিকতার সংজ্ঞায় উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এসেছে। আগে সাংবাদিকতা বলতে যা বোঝানো হতো, এখন বাস্তবতা ভিন্ন। তার ভাষায়, “নিয়মিত গণমাধ্যমের উপস্থিতির পাশাপাশি অনিয়মিত ও অনিয়ন্ত্রিত মাধ্যমের সংখ্যাও কম নয়, যা পুরো ক্ষেত্রটিকে জটিল করে তুলছে।”
গণমাধ্যমের নীতিমালা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এখনই সময় একটি কার্যকর ও বাস্তবসম্মত নীতিমালা প্রণয়ন করার। তিনি জানান, বাংলাদেশে একটি সুষ্ঠু গণমাধ্যম পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। কোন পত্রিকার প্রকৃত ছাপা সংখ্যা কত, কোন টেলিভিশনের প্রকৃত দর্শকসংখ্যা কত—এসব বিষয়ে স্বচ্ছ ও নির্ভুল হিসাব থাকা জরুরি। টিআরপি বা ভুয়া ছাপা সংখ্যার মাধ্যমে সরকারি সুবিধা আদায়ের প্রবণতা বন্ধ করতে হবে।
মন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সংবাদপত্র ও টেলিভিশনের গ্রহণযোগ্যতা নির্ধারণের উদ্যোগ নেওয়া হবে, যাতে একটি নির্ভরযোগ্য তথ্যভিত্তিক কাঠামো গড়ে ওঠে।
সংবাদ শিল্পের বৈশিষ্ট্য তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি কোনোভাবেই অন্যান্য মুনাফাভিত্তিক শিল্পের সঙ্গে তুলনীয় নয়। গার্মেন্টস বা পণ্য উৎপাদন শিল্পের মতো নয় গণমাধ্যম; এর সামাজিক দায়বদ্ধতা অনেক বেশি। এই কারণেই সংবাদ মাধ্যমকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
আতিকুর রহমান টিপু (Atikur Rahman Tipu)-র সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মোঃ কামরুজ্জামান রতন (Md. Kamruzzaman Ratan), ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক মৌসুমী মাহবুব, পুলিশ সুপার মোঃ মেনহাজুল আলম পিপিএম, ঢাকা চেম্বারস অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সাইফুল ইসলাম এবং জেলা পরিষদের প্রশাসক এ.কে.এম ইরাদত মানুসহ আরও অনেকে।


