যুক্তরাষ্ট্রের স্যান ডিয়েগোর ক্লেয়ারমন্ট এলাকায় একটি মসজিদের বন্দুকধারীর গুলিতে তিনজন নিহত হয়েছেন। সোমবার সকালে স্যান ডিয়েগো ইসলামিক সেন্টার (ICSD)-এ সক্রিয় বন্দুকধারীর উপস্থিতির খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ।
সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটের দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রথম খবর দেওয়া হয়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ কর্মকর্তারা তিনজনকে মৃত অবস্থায় দেখতে পান। এর কিছুক্ষণ পর কয়েক ব্লক দূরে একটি গাড়ির ভেতর গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দুই সন্দেহভাজন কিশোরের মৃতদেহ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, তারা নিজেরাই নিজেদের গুলি করে আত্মহত্যা করেছে।
সান ডিয়েগো পুলিশ (San Diego Police)-এর প্রধান স্কট ওয়াল (Scott Wahl) জানান, স্থানীয় সময় সকাল ৯টা ৪২ মিনিটের দিকে এক মা তার ‘পলাতক কিশোর’ ছেলেকে নিয়ে পুলিশে ফোন করেন। তিনি আশঙ্কা করছিলেন, তার ছেলে আত্মহত্যার ঝুঁকিতে রয়েছে।
ওই মা পুলিশকে জানান, তার ছেলের “বেশ কয়েকটি অস্ত্র” এবং গাড়ি নিখোঁজ। তিনি আরও জানান, তার ছেলে আরেক সঙ্গীর সঙ্গে ছিল এবং দুজনের পরনেই ছিল ক্যামোফ্লেজ পোশাক। এরপর পুলিশ সম্ভাব্য ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়ে ওই কিশোরদের খোঁজে তল্লাশি শুরু করে।
পুলিশ জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৩ মিনিটের দিকে যখন ‘অ্যাক্টিভ শুটার’ বা সক্রিয় বন্দুকধারীর হামলার খবর আসে, তখন পুলিশ সদস্যরা ওই মায়ের সঙ্গেই ছিলেন। তাদের অবস্থান ছিল ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো (Islamic Center of San Diego)-র কয়েক ব্লক দূরে।
ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ তিনজনকে মৃত অবস্থায় পায়। নিহতদের একজন ওই কেন্দ্রের নিরাপত্তা প্রহরী বলে শনাক্ত হয়েছেন। পরে কাছাকাছি একটি গাড়ির ভেতর থেকে সন্দেহভাজন দুই কিশোরের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্কট ওয়াল জানান, ঘটনাটি ‘ঘৃণাজনিত অপরাধ’ হিসেবে তদন্ত করা হচ্ছে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, এ ঘটনার সঙ্গে “ঘৃণামূলক বক্তব্যের” সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
সন্দেহভাজন কিশোরের মা ঘটনাস্থলে ফেলে রাখা একটি চিরকুট খুঁজে পান। তবে সেই চিরকুটে কী লেখা ছিল, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানায়নি পুলিশ। শুধু বলা হয়েছে, তাতে “সাধারণ প্রকৃতির ঘৃণামূলক বক্তব্য” ছিল।
যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তম মুসলিম অধিকার সংগঠন—কাউন্সিল অন আমেরিকান-ইসলামিক রিলেশনস (CAIR)—এই গোলাগুলির ঘটনাকে ‘ভয়াবহ’ বলে অভিহিত করেছে।
অনলাইনে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে CAIR জানিয়েছে, হামলার ঘটনাটি যখন ঘটছিল, তখন স্কুলের শিক্ষার্থীরা ভেতরে পড়াশোনা করছিল।
CAIR-এর সান ডিয়েগো শাখার নির্বাহী পরিচালক তাজিন নিজাম বলেন, “সান ডিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে সংঘটিত সহিংসতার এই ভয়াবহ ঘটনার আমরা তীব্র নিন্দা জানাই।”
“এই হামলার কারণে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, আমাদের সমবেদনা ও সহমর্মিতা তাঁদের সবার সাথেই রয়েছে। নামাজ আদায় কিংবা প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করার সময়—কারও-ই নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ার কোনো কারণ থাকা উচিত নয়।”
“আমরা এই ঘটনা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা করছি এবং আমরা সবার প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, আপনারা যেন এই সম্প্রদায়ের মানুষদের আপনাদের প্রার্থনায় স্মরণ রাখেন।”


