সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান (General Waker-Uz-Zaman) বলেছেন, এতদিন সেনাবাহিনী দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার কাজে নিয়োজিত ছিল। এখন থেকে প্রধান কাজ হবে ক্যান্টনমেন্টে ফিরে নিয়মিত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা এবং সেনাবাহিনীকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত রাখা।
বৃহস্পতিবার (২১ মে) কুমিল্লা সেনানিবাসে ফায়ারিং প্রতিযোগিতা-২০২৬-এর সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেনাপ্রধান বলেন, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই থেকে দেশের প্রয়োজনে সেনাবাহিনী মাঠে দায়িত্ব পালন করেছে। বর্তমানে দেশ স্থিতিশীল হওয়ায় তারা ধীরে ধীরে ব্যারাকে ফিরে যাচ্ছে। তবে দেশের প্রয়োজনে যেকোনো সময় দায়িত্ব পালনের জন্য সেনাবাহিনী প্রস্তুত থাকবে।
তিনি বলেন, “যতক্ষণ সরকার আমাদের চাইবে, যেকোনো প্রয়োজনে আমরা প্রস্তুত থাকব।” দেশের ক্রান্তিলগ্নে সেনা সদস্যদের ভূমিকা জাতি কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ রাখবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান বলেন, দীর্ঘদিন মাঠে থাকার পরও সেনা সদস্যরা ফায়ারিংয়ে সক্রিয় ও দক্ষ রয়েছেন। গত ১৮ মাস মাঠে দায়িত্ব পালন করেও ফায়ারিং প্রতিযোগিতায় সেনা সদস্যদের পারফরম্যান্স অত্যন্ত ভালো এবং তা সত্যিই অভূতপূর্ব।
প্রতিযোগিতায় বিজয়ী ও রানারআপ দলের সদস্যদের অভিনন্দন জানিয়ে সেনাপ্রধান তাদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন।
উল্লেখ্য, গত ১৬ মে সদর দপ্তর ৩৩ পদাতিক ডিভিশনের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় এ ফায়ারিং প্রতিযোগিতা শুরু হয়। এতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী (Bangladesh Army)-এর বিভিন্ন ফরমেশন, লজিস্টিকস এরিয়া, পাঁচটি স্বতন্ত্র ব্রিগেড এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেডসহ মোট ১৭টি দল অংশ নেয়।
প্রতিযোগিতায় ১৭ পদাতিক ডিভিশন চ্যাম্পিয়ন এবং প্যারা কমান্ডো ব্রিগেড রানারআপ হওয়ার গৌরব অর্জন করে।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর মাস্টার জেনারেল অব দ্য অর্ডিন্যান্স, কমান্ড্যান্ট বাংলাদেশ অর্ডিন্যান্স ফ্যাক্টরি, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ৩৩ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার কুমিল্লা এরিয়া, জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ১৭ পদাতিক ডিভিশন ও এরিয়া কমান্ডার সিলেট এরিয়াসহ সেনাসদর ও বিভিন্ন ফরমেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন পর্যায়ের সেনা সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।


