চলতি মাসের প্রথম ২৬ দিনে প্রবাস আয়ে নতুন এক মাইলফলকের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে বাংলাদেশ। বাংলাদেশ ব্যাংক (Bangladesh Bank)–এর হালনাগাদ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ সময়ে দেশে মোট ২৯৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে, যা দেশের ইতিহাসে একক মাসে প্রাপ্ত সর্বোচ্চ রেমিট্যান্সের রেকর্ড।
মাসের প্রথম ২৬ দিনেই আগের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে
গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশে ২৫২ কোটি ডলারের সর্বোচ্চ রেমিট্যান্স এসেছিল। তবে চলতি মাসের ২৬ দিনেই সেই রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, এ মাসে প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি ৩২ লাখ ডলার রেমিট্যান্স এসেছে। এখন মাস শেষ হতে বাকি চার দিন। তাই সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এবারই প্রথম দেশে প্রবাস আয়ের পরিমাণ ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
রমজান ও ঈদ সামনে রেখে প্রবাসী আয়ে প্রবাহ
বিশ্লেষকরা বলছেন, গত বছরের আগস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এটি প্রথম ঈদ। ফলে অনেক প্রবাসী বৈধ পথে অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বেশি রেমিট্যান্স পাঠাচ্ছেন। ব্যাংকাররা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে অর্থপাচার অনেকটা কমে আসায় প্রবাসীরা বৈধ চ্যানেলে আয় পাঠাতে উৎসাহী হয়েছেন।
এই প্রবৃদ্ধির ফলে পবিত্র রমজান মাসে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, প্রবাস আয় বৃদ্ধির ফলে দেশে ডলারের সংকট অনেকটাই কমেছে। এছাড়া ডলারের মূল্য নিয়ে অস্থিরতাও প্রশমিত হয়েছে। বর্তমানে ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত সর্বোচ্চ ১২৩ টাকা দরে প্রবাস আয় কিনছে।
দৈনিক রেমিট্যান্সের পরিসংখ্যান
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ১৬৬ কোটি ডলার। এরপর ১৯ মার্চে তা বেড়ে দাঁড়ায় ২২৫ কোটি ডলারে। শুধু ১৯ মার্চেই এসেছে ১৩ কোটি ডলার। ২২ মার্চে মোট রেমিট্যান্স হয় ২৪৩ কোটি ডলার এবং ২৪ মার্চে তা বেড়ে হয় ২৭০ কোটি ডলার। ২৬ মার্চ শেষে প্রবাস আয়ের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৯৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার।
এছাড়া প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে ১১ কোটি ডলার এবং দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ে ১২ কোটি ডলার করে প্রবাস আয় এসেছে। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, বাকি চার দিনেও প্রবাসীদের বৈধ আয়ে এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত থাকবে।