লতিফ সিদ্দিকীর বাড়িতে আগুনের ভিডিও ভাইরাল, যা বললো স্থানীয় পুলিশ

আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী (Kader Siddique) এর ভাই আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী (Abdul Latif Siddique)–র বাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের একটি ভিডিও বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সন্ধ্যার পর থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে, যা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। ৪০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, একটি ভবনে আগুন জ্বলছে, পাশে লোকজন ভিড় করছে। তবে ভিডিওটিকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে স্থানীয় পুলিশ, আত্মীয়স্বজন ও সংশ্লিষ্টরা।

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দেশের বিভিন্ন মহলে আলোচনার ঝড় ওঠে। তবে টাঙ্গাইলের কালিহাতী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকির হোসেন স্পষ্ট করে জানান, “লতিফ সিদ্দিকীর বাড়িতে আগুনের ঘটনা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এটি নিছক গুজব।” তিনি আরও জানান, গুজব ছড়ানোর প্রেক্ষিতে লতিফ সিদ্দিকীর বাড়িতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী–র একান্ত সচিব ফরিদ আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরো সময় লতিফ সিদ্দিকীর বাড়িতে নিরাপত্তায় ছিল।”

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার সময়কাল নিয়ে বিশ্লেষণে দেখা যায়, এটি ঘটনার দিন সকাল থেকেই আলোড়ন তুলতে শুরু করে। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালেই ঢাকায় এক গোলটেবিল বৈঠক ঘিরে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক সভার আয়োজন করে ‘মঞ্চ ৭১’। এতে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল ড. কামাল হোসেন (Dr. Kamal Hossain)-এর, যদিও তিনি শেষ পর্যন্ত আসেননি।

বৈঠকে প্রথম বক্তৃতা দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন)। তার বক্তব্য শেষ হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই একদল বিক্ষোভকারী মিছিল নিয়ে ডিআরইউ মিলনায়তনে প্রবেশ করে। তারা স্লোগান দিতে দিতে আলোচনা সভার ব্যানার ছিঁড়ে ফেলে এবং উপস্থিত আলোচকদের অবরুদ্ধ করে রাখে। প্রায় এক ঘণ্টা পর দুপুর ১২টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে লতিফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক হাফিজুর রহমানসহ অন্তত ১৫ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

এই উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটেই সন্ধ্যার দিকে ভাইরাল হয় অগ্নিকাণ্ডের ভিডিওটি, যার সঙ্গে বাস্তব ঘটনার কোনো সংযোগ নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্টরা। ভিডিওর মাধ্যমে অস্থিরতা তৈরির অপচেষ্টা হয়েছে কিনা, তা নিয়েও শুরু হয়েছে তদন্ত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *