জাতীয় পার্টিসহ ১৪ দল নিষিদ্ধের দাবি জামায়াতের

জাতীয় পার্টি নয়, আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলীয় জোটকে পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)। শনিবার ঢাকায় আয়োজিত এক বিক্ষোভ সমাবেশে এ দাবি জানান দলের সহকারী সেক্রেটারি ও সাবেক এমপি ড. এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ (Dr. A.H.M. Hamidur Rahman Azad)।

তিনি বলেন, জাতিসংঘ স্বীকৃত ‘গণহত্যাকারী ফ্যাসিস্ট দল’ আওয়ামী লীগের শরিকদেরও নিষিদ্ধ করা উচিত। তার ভাষ্য, গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর (Nurul Haque Nur)-এর ওপর হামলা প্রমাণ করেছে যে, আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো সক্রিয়। বিশেষ করে এই হামলা ‘ফ্যাসিবাদকে পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র’ হিসেবেই উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বারবার বলে আসা হয়েছে যে অন্তর্বর্তী সরকারের ভেতরে বাইরে এই সব শক্তি লুকিয়ে আছে, আর নুরুর ওপর হামলা সেই কথাই প্রমাণ করে। তিনি দ্রুত সিসিটিভি ফুটেজ ও গণমাধ্যমের ভিডিও দেখে হামলাকারীদের শনাক্ত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

নির্বাচন প্রসঙ্গে ড. আযাদ বলেন, ৫৪ বছরেও জনগণের সরকার গঠিত হয়নি। তাই প্রচলিত পদ্ধতির পরিবর্তে পিআর (PR) পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের দাবি জানান তিনি। তার মতে, এই পদ্ধতিই একমাত্র পথ যা সত্যিকারের ‘জনগণের সংসদ’ গড়তে পারে।

তিনি বলেন, বিভিন্ন জরিপে ৭১ শতাংশ মানুষ পিআর পদ্ধতিকে সমর্থন করছে, অথচ মাত্র একটি দলের আপত্তিতে তা উপেক্ষিত হচ্ছে। এ অবস্থায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ‘বিপ্লবী’ হতে পারবে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন দলের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. হেলাল উদ্দিন (Dr. Helal Uddin)। বক্তব্য রাখেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম, ড. আব্দুল মান্নান, মো. শামসুর রহমান ও মজলিশে শূরা সদস্য দেলোয়ার হোসেন।

আব্দুল হালিম বলেন, গণঅধিকার পরিষদ একটি ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দল এবং তাদের প্রধানের ওপর রাষ্ট্রীয় হামলা মূলত সরকারের আসল চেহারা উন্মোচন করেছে। “জুলাই যোদ্ধার ওপর হামলা হলে জনগণ বসে থাকবে না”—এই হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *