নুরের ওপর হামলার ঘটনায় রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে, জাতীয় পার্টি নিষিদ্ধের ছক আঁকা হচ্ছে: জাহেদ উর রহমান

ডাকসুর সাবেক ভিপি এবং গণ অধিকার পরিষদের প্রধান নুরুল হক নুর (Nurul Haque Nur)-এর ওপর হামলার ঘটনা গতকাল সন্ধ্যার পর থেকেই দেশের রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গুরুতরভাবে আহত নুরকে নিয়ে অভিযোগ উঠেছে, আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর সদস্যরাই এই হামলায় জড়িত। যদিও ভিডিও ফুটেজে পুরো ঘটনা পরিষ্কার নয়, তবে রাশেদ খানসহ দলীয় নেতাদের বক্তব্য থেকে ঘটনাটি সত্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

সম্প্রতি রাজনৈতিক বিশ্লেষক জাহেদ উর রহমান (Zahed Ur Rahman) তার ইউটিউব চ্যানেলে এ প্রসঙ্গে বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, “এ হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এর পেছনে সুদূরপ্রসারী রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে।” তার মতে, এর মাধ্যমে জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার পরিকল্পনা সামনে আনা হতে পারে। নূরের ওপর হামলার পর থেকেই এনসিপি ও গণ অধিকার পরিষদ এ বিষয়টি জোর দিয়ে তুলছে।

তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা অবশ্যই নুরের ওপর হামলাকে তীব্র নিন্দা জানাই। আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ইতিহাস নতুন নয়। শেখ হাসিনার আমলে পুলিশ অনেকটাই ‘মিলিটারাইজড’ হয়ে পড়েছে। সেনাবাহিনীকে বারবার মাঠে নামানোও কোনো সুস্থ দৃষ্টান্ত নয়। সেনাবাহিনী মূলত যুদ্ধক্ষেত্রের প্রশিক্ষিত বাহিনী, জনশৃঙ্খলা রক্ষার জন্য নয়। দীর্ঘদিন মাঠে থাকার কারণে তাদের প্রশিক্ষণ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, একইসাথে দুর্নীতির প্রবণতাও বাড়ছে। যদি সত্যিই কোনো উসকানি ছাড়াই নুরের ওপর হামলা হয়ে থাকে, তবে তা ভয়াবহ অন্যায়। এর সঠিক তদন্ত এখন জরুরি।”

জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, হামলার পর জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধের দাবিতে আন্দোলন শুরু হয় এবং তাদের অফিসের দিকে মিছিল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়। তিনি এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিকভাবে উসকানিমূলক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে অভিহিত করেন। তার মতে, যেহেতু জাতীয় পার্টি একটি বৈধ রাজনৈতিক দল, তাদের অফিস সুরক্ষা দেওয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কিন্তু গণ অধিকার পরিষদের এমন উদ্যোগ উত্তেজনা বাড়ানোর ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “জাতীয় পার্টিকে নিষিদ্ধ করার তৎপরতা কোনো স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রক্রিয়া নয়। এটি আসলে নির্বাচনী পরিবেশ জটিল করার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা। জাতীয় পার্টি যদি নির্বাচনে থাকে, তাহলে তারা কিছু আসনে লড়াই করতে পারে, এমনকি নির্দলীয় প্রার্থীদের সহযোগিতায় জয়ীও হতে পারে। অন্যদিকে জামায়াত ও এনসিপি যদি অংশ না নেয়, তবে মাঠে কেবল বিএনপি ও তাদের জোটই থাকবে। তাদের একক অংশগ্রহণের নির্বাচন আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি হারাবে। সম্ভবত সেই সুযোগটিকেই কাজে লাগাতে জাতীয় পার্টিকে সরানোর চেষ্টা চলছে।”

শেষে তিনি আহ্বান জানান, “যারা দেশকে অস্থিরতার দিকে ঠেলে দিতে চাই না, তাদের এখনই বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা উচিত। নির্বাচন বানচালের কিংবা পেছানোর যেকোনো উদ্যোগ প্রতিহত করতে হবে। এর জন্য দরকার সত্য উদঘাটন, ন্যায়বিচার এবং রাজনৈতিক সংযম।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *