চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে (চবি) শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের মাঝে চলমান সংঘর্ষের ঘটনায় উসকানিদাতা বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য উদয় কুসুম বড়ুয়াকে বহিষ্কার করেছে দলটি।
রোববার (৩১ আগস্ট) বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত পত্রে বলা হয়, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিসহ দলের নির্দেশনা অমান্য করে সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপে জড়িত থাকার জন্য গঠনতন্ত্রের বিধান মোতাবেক বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য উদয় কুসুম বড়ুয়াকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সকল পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে তিনি স্থানীয়দের উসকানি দিয়ে বলেন, ‘মনে রাখবেন আমাদের মধ্যে ষড়যন্ত্র হতে পারে। কেউ কেউ দলের প্রশ্ন আনতে পারে। আমরা স্পষ্ট বলতে চাই, আমরা জোবরার সন্তান, এখানে কোনো দল নেই। আমরা সবাই এলাকার নাগরিক, আমাদের এলাকার নিরাপত্তার জন্য আমরা সবাই এক ও অভিন্ন। আমরা কোনো ধরনের ফ্যাসিস্ট শক্তির কাছে মাথা নত করব না। অনতিবিলম্বে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘২৪ ঘণ্টার মধ্যে অপরাধীদের গ্রেপ্তার করতে না পারলে, আমরা জোবরার জনগণ বিশ্ববিদ্যালয় ঘেরাও করব। এর জন্য জীবন গেলে জীবন দেব। আমার মা-বোনের ইজ্জতের চেয়ে জীবন বড় নয়, আমার এলাকার সন্তানের চেয়ে আমার জীবন বড় নয়, সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকবেন, আন্দোলনকে চূড়ান্ত পর্যায়ে নেওয়ার জন্য আমরা ২৪ ঘণ্টা সময় দিয়েছি। এখন আমি ভিসির সঙ্গে কথা বলব। সমস্যা সমাধানে ২৪ ঘণ্টা সময় দিচ্ছি, না হলে বৃহত্তর আন্দোলনে যাব এবং রাঙামাটি-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করব। সোজা আঙুলে ঘি উঠে না। কোনো আন্দোলন বা অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে আপসের মাধ্যমে সমাধান পাবেন না। এ আন্দোলনে সবাইকে সম্পৃক্ত থাকার উদাত্ত আহ্বান জানাচ্ছি।’
উল্লেখ্য, দুদিন ধরেই দফায় দফায় চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং স্থানীয়দের মাঝে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। যার পরিপ্রেক্ষিতে ১৪৪ ধারা জারি করে প্রশাসন। বিকাল ৪টায় যৌথবাহিনীর টহলের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। প্রয়োজনে হতে পারে যৌথবাহিনীর অভিযান।
এদিকে চবি মেডিকেল সেন্টারের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ফারহানা ইয়াসমিন জানিয়েছেন, চবির মেডিকেল সেন্টার থেকে চিকিৎসা নিয়েছেন ১৫০০ জন শিক্ষার্থী। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে ৫০০ জনকে। এর মধ্যে আশঙ্কাজনক অন্তত ১০ জন। যার মধ্যে ২ জন আইসিইউতে।