বিজয়ের মাসে বিএনপির ‘বিজয় মশাল রোড শো’, ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় মহাসমাবেশ

৫৫তম মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বিএনপি (BNP)। এই কর্মসূচির অন্যতম আকর্ষণ ‘বিজয়ের মাসে বিজয় মশাল রোড শো’, যা শুরু হবে ঐতিহাসিক চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে এবং শেষ হবে ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার মানিক মিয়া এভিনিউয়ে অনুষ্ঠিতব্য মহাসমাবেশের মাধ্যমে।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই কর্মসূচির বিস্তারিত জানান।

তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের মার্চে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন তৎকালীন মেজর জিয়াউর রহমান। সুতরাং এই স্থান আমাদের মুক্তিযুদ্ধের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এখান থেকেই শুরু হবে বিজয়ের মাসের কর্মসূচি।”

বিএনপি মহাসচিব জানান, ১ ডিসেম্বর কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বিজয় মশাল যাত্রা শুরু হয়ে চট্টগ্রামের বিপ্লব উদ্যানে গিয়ে প্রথম দিনের যাত্রা শেষ হবে। এই রোড শোয়ে মশাল বহন করবেন একজন মুক্তিযোদ্ধা এবং একজন ‘জুলাই যোদ্ধা’, যারা ১৯৭১ ও ২০২৪ সালের সংগ্রামের প্রতীক।

চট্টগ্রামের পর মশাল রোড শো পৌঁছাবে কুমিল্লা, সিলেট, ময়মনসিংহ, বগুড়া, রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুরে। প্রতিটি বিভাগে সমাবেশের পাশাপাশি মশাল বহন করবেন স্থানীয় একজন খ্যাতিমান মুক্তিযোদ্ধা ও একজন জুলাই যোদ্ধা।

রোড শো চলাকালে থাকবে স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত স্থান পরিদর্শন, জাতীয় সংগীত, দেশাত্মবোধক গান, জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়াতারেক রহমান-এর বক্তব্যের নির্বাচিত অংশ প্রচার, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও তথ্যচিত্র প্রদর্শনী।

বিএনপির ৩১ দফা কর্মসূচিও তুলে ধরা হবে এই আয়োজনের মধ্য দিয়ে। দলটির এবারের থিম সং—“সবার আগে বাংলাদেশ।”

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, “দীর্ঘ দেড় দশক ধরে জনগণ গণতান্ত্রিক অধিকারহীন ছিল। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের মধ্য দিয়ে শহীদদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে ২০২৪ সালে দেশ মুক্ত হয়েছে। এবার বিজয়ের মাস আমাদের জন্য ভিন্নমাত্রার এক বিজয়।”

তিনি আরও বলেন, “১৯৭১-এর স্বাধীনতা, ৭৫-এর ৭ নভেম্বরের আধিপত্যবাদবিরোধী রুখে দাঁড়ানো, ৯০-এর স্বৈরাচার পতনের পর আজ ২০২৪ সালে আবারও ফ্যাসিবাদবিরোধী বিজয় অর্জিত হয়েছে। এত শহীদ কেন জীবন দিলেন? তারা একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। এবারের বিজয় দিবস হোক সেই স্বপ্ন পূরণের শপথ।”

তিনি এই বিজয় মাসকেই জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে “স্বাধীনতাকামী গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণের জন্য বিশাল সুযোগ” হিসেবে আখ্যা দেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *