পদ আর জোট জটিলতায় আটকে মাহফুজ ও আসিফের এনসিপিতে যোগদান

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ থেকে পদত্যাগের পর মাহফুজ আলম (Mahfuz Alam) ও আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া (Asif Mahmud Sojib Bhuiyan) কে ঘিরে তৈরি হয়েছে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ। তাঁদের পরবর্তী গন্তব্য নিয়ে চলমান জল্পনা-কল্পনার কেন্দ্রে উঠে এসেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party – NCP)। রাজনৈতিক অঙ্গনের একাধিক সূত্র বলছে, এই দুই সাবেক উপদেষ্টা শিগগিরই এনসিপিতে যোগ দিতে পারেন, যা দেশের রাজনীতিতে নতুন গতিপথ তৈরি করতে পারে।

দলে কী দায়িত্বে থাকবেন মাহফুজ-আসিফ?

এনসিপি-সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মাহফুজ আলমকে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক এবং আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে সদস্যসচিব পদে আনার বিষয়ে সক্রিয় আলোচনা চলছে। যদিও এখনো কিছু চূড়ান্ত হয়নি, তবে আলোচনা যে অনেক দূর এগিয়েছে—তা বলছেন সংশ্লিষ্টরাই।

দলের অভ্যন্তরে এ বিষয়ে ইতিবাচক সাড়া মিলেছে বলেও জানা গেছে। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম (Nahid Islam), সদস্যসচিব আখতার হোসেন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার একাধিকবার প্রকাশ্যে বলেছেন, মাহফুজ ও আসিফ দলে এলে তাঁদের উষ্ণ স্বাগত জানানো হবে। সারোয়ার তুষার আজকের পত্রিকাকে বলেন, “মাহফুজ আলম এবং আসিফ মাহমুদের জন্য এনসিপির দরজা সব সময় খোলা। তাঁরা চাইলে যেকোনো সময় আসতে পারেন। এ নিয়ে আলোচনা চলছে।”

যোগদানের সময়সীমা ও সম্ভাব্য প্রভাব

এনসিপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, “তাঁরা কয়েক দিন হলো অন্তর্বর্তী সরকার থেকে পদত্যাগ করেছেন। আগামী এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিনের মধ্যেই তাঁদের আনুষ্ঠানিক যোগদানের ঘোষণা আসতে পারে।”

দলীয় নেতারা মনে করছেন, মাহফুজ ও আসিফ এনসিপিতে যোগ দিলে রাজনৈতিক কৌশলে আসবে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। বিশেষ করে বিএনপির (BNP) সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা নতুন মাত্রা পেতে পারে। মাহফুজ-আসিফ উভয়েরই অবস্থান, এনসিপি যেন বিএনপির সঙ্গে সমন্বয় করে নির্বাচনে অংশ নেয়। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে, এনসিপির অবস্থান শুধু একটি বিকল্প রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম নয়—বরং আন্দোলন-পরবর্তী রাজনীতির তরুণ নেতৃত্ব ও প্রধান দলগুলোর সংলাপে গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হয়ে উঠতে পারে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে নজর তাঁদের ঘোষণা ঘিরে

এই দুই নেতার রাজনৈতিক পা ফেলানো শুধু এনসিপির জন্য নয়, বরং দেশের বৃহত্তর রাজনৈতিক চিত্রের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠছে। তাঁদের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখন কেবল সময়ের অপেক্ষা—যা হয়তো বড় ধরনের রাজনৈতিক সমীকরণের ইঙ্গিত দেবে। বিশ্লেষকদের মতে, এই সিদ্ধান্ত আগামী নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিরোধী রাজনীতির অঙ্ককেও পাল্টে দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *