ফয়াসলই আমাকে হাদির কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন—আদালতে ফয়সালের ঘনিষ্ঠ সহযোগীর স্বীকারোক্তি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হ’\ত্যা’\চেষ্টার ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী মো. কবির আদালতে বলেছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে ফয়সালের গাড়িচালক হিসেবে কাজ করতেন এবং ঘটনার দিন ফয়সালই তাকে সরাসরি হাদির কাছে নিয়ে গিয়েছিলেন। এর বাইরে এই ঘটনায় নিজের কোনো ভূমিকা বা বিস্তারিত কিছু তিনি জানেন না বলে দাবি করেন।

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) বিকেলে রিমান্ড শুনানির সময় কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে এসব কথা বলেন কবির। শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট হাসিবুজ্জামানের আদালত তার সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এর আগে গত রোববার রাতে নারায়ণগঞ্জে অভিযান চালিয়ে কবিরকে গ্রে’\ফতা’\র করা হয়। মঙ্গলবার বিকাল ৪টা ৫৩ মিনিটে তার রিমান্ড শুনানি শুরু হয়। এ সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আদালতের কাছে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন।

শুনানিতে তদন্ত কর্মকর্তা বলেন, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে দেখা গেছে—আসামি কবির ও ফয়সালসহ অন্য আসামিরা ওসমান হাদি (Osman Hadi)-এর কালচারাল সেন্টারে যান। ঘটনাস্থলে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি হান্নানের কাছ থেকে বিক্রি করা হয়েছিল এবং সেই মোটরসাইকেলের মালিক কবির। মামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং পলাতক আসামিদের গ্রে’\ফতা’\রের স্বার্থে ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন বলে তিনি আদালতকে জানান।

রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে শুনানিতে আইনজীবী মো. কাইয়ুম হোসেন নয়ন বলেন, কবির আদাবর থানার স্বেচ্ছাসেবক লীগের ১ নম্বর যুগ্ম আহ্বায়ক। মোটরসাইকেলযোগে হাদিকে গু’\লি করা হয়েছে এবং তার জীবন এখনো সংকটাপন্ন। তিনি বলেন, হাদি বিগত সরকারের দুর্নীতি ও অনিয়ম নিয়ে কথা বলতেন। এ কারণেই পার্শ্ববর্তী দেশের ‘র’ ও শেখ হাসিনা জুলাই যোদ্ধাদের টার্গেট করে। এনসিপি, বিএনপি ও জামায়াতের প্রার্থীদেরও টার্গেট করে জনমনে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করাই ছিল তাদের উদ্দেশ্য। ফয়সালসহ কবির সরাসরি হাদির কাছে যান এবং ঘটনার পর তাদের ছবি ভাইরাল হলে কবির আত্মগোপনে চলে যান। এই হ’\ত্যা’\চেষ্টার সঙ্গে আর কারা জড়িত, তা জানতে ১০ দিনের রিমান্ড প্রয়োজন বলে তিনি আদালতে যুক্তি দেন।

শুনানির একপর্যায়ে বিচারক কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে থাকা কবিরের কাছে সরাসরি জানতে চান, তিনি এই ঘটনায় কী জানেন। জবাবে কবির বলেন, ‘স্যার, আমি ১৮ দিন আগে উনার (ফয়সাল) গাড়ি আর পাঠাও চালাইতাম। উনি আমাকে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যেতেন। উনিই আমাকে হাদির কাছে নিয়ে যান। তার সঙ্গে গিয়েছি—এই আমার অপরাধ। সেই ফুটেজে আমাকে দেখা গেছে। এর বাইরে আমি আর কিছুই জানি না, স্যার।’

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স-কালভার্ট রোডে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা ওসমান হাদি (Osman Hadi)-এর মাথায় গু’\লি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল (Dhaka Medical College Hospital) এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতাল (Evercare Hospital)-এ ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুর (Singapore)-এ পাঠানো হয়।

এদিকে, গত ১৪ ডিসেম্বর হাদিকে হ’\ত্যা’\চেষ্টার ঘটনায় দুর্বৃত্তদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক মো. আব্দুল হান্নানকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তিন দিনের রিমান্ডে পাঠানো হয়। পাশাপাশি গত ১৫ ডিসেম্বর আদালত ফয়সালের স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু এবং বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমার পাঁচ দিনের রিমান্ডও মঞ্জুর করেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *