মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধের মধ্যে দুবাইয়ের আজমান শহরে মিসাইল হামলায় প্রাণ হারানো প্রবাসী বাংলাদেশি সালেহ আহমদের মরদেহ দেশে পৌঁছানোর পর নিজ উদ্যোগে সেটি গ্রামের বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী (Ariful Haque Chowdhury)।
সরকারি উদ্যোগে দেশে আনা মরদেহ প্রথমে ঢাকায় পৌঁছায়। পরে সেটি সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর (Osmani International Airport)-এ নিয়ে আসা হয়। সোমবার সকাল ১১টার দিকে বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিকভাবে মরদেহ গ্রহণ করেন মন্ত্রী।
এরপর তিনি নিজেই মরদেহ নিয়ে মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার গাজিটেক গ্রামে নিহত প্রবাসীর বাড়িতে যান। সেখানে পরিবারের সদস্যদের হাতে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়। পরে জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়।
জানা গেছে, সালেহ আহমদ দীর্ঘদিন ধরে দুবাইয়ের আজমান শহরে বসবাস করতেন এবং সেখানে পানি বহনকারী লরি চালাতেন। গত ২৮ মার্চ বিকেলে আজমান এলাকায় কয়েকটি মিসাইল আঘাত হানে। এর মধ্যে একটি মিসাইল এসে পড়ে তার গাড়ির ওপর। ঘটনাস্থলেই তার মৃ’\ত্যু হয়।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অনেক দেশের আকাশপথে উড়োজাহাজ চলাচল সীমিত থাকায় মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনা ছিল অত্যন্ত কঠিন। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান (Tarique Rahman)-এর নির্দেশে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় (Ministry of Foreign Affairs) এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় (Ministry of Expatriates’ Welfare and Overseas Employment) যৌথভাবে মরদেহ দেশে আনার ব্যবস্থা করে।
বিমানবন্দরে মরদেহ গ্রহণের সময় প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. নিয়ামত উল্লাহ, সিলেট বিভাগীয় কমিশনার মো. রেজা-উন-নবী, সিলেট রেঞ্জের ডিআইজি মো. মুশফেকুর রহমান এবং সিলেটের জেলা প্রশাসক সারোয়ার আলমসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও প্রবাসীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে। তিনি জানান, বর্তমানে সংঘাতের কারণে নি’\হত ও আহত প্রবাসীদের বিষয়ে সরকার সার্বক্ষণিক খোঁজখবর রাখছে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, প্রবাসীদের যেকোনো সংকটে তাদের পরিবারের সদস্যের মতো পাশে থাকবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়।


