রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলায় জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-র উপজেলা কমিটির আহ্বায়কসহ ৮৭ জন নেতা একযোগে পদত্যাগ করেছেন। রাঙামাটি জেলা কমিটির সদস্য ও জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমা (Asim Chakma) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, সোমবার এক বিশেষ সভায় উপজেলা কমিটির আহ্বায়ক অসিম চাকমাসহ পূর্ণাঙ্গ কমিটির সব সদস্য গণপদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। পরে এ–সংক্রান্ত পদত্যাগপত্র জাতীয় নাগরিক পার্টি (National Citizen Party)-র রাঙামাটি জেলা কমিটির কাছে পাঠানো হয়েছে।
উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক দেবাশীষ চাকমা (Debashish Chakma) জানান, গত ১ জানুয়ারি রাঙামাটি জেলা কমিটি জুরাছড়ি উপজেলার ৮৭ সদস্যের একটি কমিটি ছয় মাসের জন্য অনুমোদন দেয়। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তাঁরা সম্মিলিতভাবে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
পদত্যাগী নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত ও নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যাশা নিয়ে তাঁরা দলে যুক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু সামনে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বড় একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট করার সিদ্ধান্তে এনসিপি তার নিজস্ব আদর্শিক অবস্থান থেকে সরে এসেছে বলে তাঁদের মনে হয়েছে।
তাঁরা বলেন, দলটির বর্তমান অবস্থানের সঙ্গে তাঁদের আদর্শিক অবস্থানের মিল না থাকায় তাঁরা সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
এ বিষয়ে অসিম চাকমা বলেন, “এই পরিস্থিতিতে আমাদের পক্ষে সেই আদর্শকে লালন করা আর সম্ভব হচ্ছে না। তাই আজ থেকে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) রাঙামাটি জেলা আহ্বায়ক কমিটির সদস্য এবং জুরাছড়ি উপজেলা আহ্বায়কসহ সব সাংগঠনিক পদ থেকে পদত্যাগ করেছি।”
কোনো রাজনৈতিক দলের চাপের কারণে পদত্যাগ করা হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের চাপে নয়, নিজেদের সিদ্ধান্তেই পদত্যাগ করেছেন।
এদিকে রাঙামাটি জেলা শাখার আহ্বায়ক বিপিন জ্যোতি চাকমা (Bipin Jyoti Chakma) বলেন, জুরাছড়ি উপজেলা কমিটির গণপদত্যাগের বিষয়ে তিনি অবগত হয়েছেন এবং এ সংক্রান্ত পদত্যাগপত্র তাঁর কাছে পৌঁছেছে।
অন্যদিকে এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের সংগঠক মনজিলা সুলতানা ঝুমা (Monjila Sultana Jhuma) গণমাধ্যমকে বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং স্থানীয় কয়েকজন নেতা–কর্মীর মাধ্যমে তিনি পদত্যাগের বিষয়টি জানতে পেরেছেন। তবে সাংগঠনিক নিয়ম অনুযায়ী যে কমিটি অনুমোদন দেয়, সেই কমিটির কাছেই লিখিতভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিতে হয়। সংশ্লিষ্ট নেতারা নিয়ম মেনে তা জমা দিয়েছেন কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত নন।
তিনি আরও বলেন, যদি জামায়াতের সঙ্গে জোটের কারণেই পদত্যাগ করা হতো, তাহলে নির্বাচনের আগেই তা ঘটতে পারত। যেহেতু নির্বাচনের পরে পদত্যাগ করা হয়েছে, তাই কোনো রাজনৈতিক চাপ থাকতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।
গণপদত্যাগের ফলে সংগঠনের কার্যক্রমে প্রভাব পড়বে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এতে সংগঠনের ওপর বড় কোনো প্রভাব পড়বে না এবং প্রয়োজনে নতুন করে কমিটি গঠন করা হবে।
এর আগে রাঙামাটিতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) জেলা কমিটির সাতজন শীর্ষ নেতা পদত্যাগ করেছেন। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পদত্যাগপত্র ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার সৃষ্টি করে।
পদত্যাগ করা নেতারা হলেন- রাঙামাটি জেলা শাখার যুগ্ম সদস্য সচিব উজ্জল চাকমা, সংগঠনিক সম্পাদক দিবাকর চাকমা ও মিশন চাকমা, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ঊষাপ্রু মারমা, দপ্তর সম্পাদক প্রনয় বিকাশ চাকমা এবং সদস্য বিনয় চাকমা ও সুলেখা চাকমা।
জানা গেছে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় সিদ্ধান্ত ও জোট রাজনীতিকে কেন্দ্র করে আদর্শগত মতপার্থক্যের কথা উল্লেখ করে তারা পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন।


