ফেসবুকে দেওয়া এক আবেগঘন বার্তায় তারেক রহমান জানিয়েছেন, তার মা, দেশনেত্রীর শেষ বিদায় পর্বে শান্তি, নিরাপত্তা ও সম্মানজনক পরিবেশ নিশ্চিতে নানা রাষ্ট্রীয় বাহিনী, মন্ত্রণালয় ও সাংবাদিকদের অবদানে তিনি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তারেক রহমান লেখেন, “গতকাল, আমার জীবনের এক গভীর শোকের মুহূর্তে, আমি আমার মায়ের শেষ বিদায় দিতে পেরেছি। এটি এমন এক ঐতিহাসিক বিদায়, যা দেশের মানুষের জন্য যথাযথ শ্রদ্ধা ও মর্যাদার সঙ্গে সম্পন্ন হয়েছে।”
তিনি বলেন, “এটা সম্ভব হয়েছে যাঁদের যত্ন, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারিত্বের কারণে। তাঁদের সবাইকে আমি অন্তরের গভীর থেকে ধন্যবাদ জানাই।”
বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানানো হয় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনীর কর্মকর্তা ও সদস্যদের। তারা শুধু শৃঙ্খলা বজায় রাখেননি, বরং শোকে মুহ্যমান পরিবেশে মানবিকতার দৃষ্টান্তও স্থাপন করেছেন বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, “আপনারা আমাদের সবাইকে নিরাপদে রেখেছেন এবং শান্তিপূর্ণভাবে জানাজায় অংশগ্রহণের সুযোগ দিয়েছেন।”
এছাড়া নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নারী ও পুরুষ সদস্যদেরও ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তাঁর বার্তায় স্থান পেয়েছে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, পুলিশ, বিজিবি (BGB), আনসার ও ভিডিপি, র্যাব (RAB), এবং এপিবিএন (APBn)-এর নাম।
তারেক রহমান লিখেছেন, “আপনাদের ধৈর্য, সততা ও দায়িত্ববোধের কারণে লক্ষ-লক্ষ মানুষ নিরাপদে একত্রিত হতে পেরেছে, স্বতঃস্ফূর্তভাবে শোক প্রকাশ ও শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছে, এবং শান্তিপূর্ণভাবে ফিরে যেতে পেরেছে।”
তাঁর কৃতজ্ঞতা আরও বিস্তৃত হয় গোয়েন্দা সংস্থা পর্যন্ত। ডিজিএফআই (DGFI), এনএসআই (NSI) এবং স্পেশাল ব্রাঞ্চের নিঃশব্দে কাজ করা সদস্যদের প্রতিও সমানভাবে কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তাদের দায়িত্বশীলতা ও সতর্কতার জন্য পুরো দিনটি নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এছাড়া জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা, সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের পিএসও, এসএসএফ-এর ডিজি এবং একাধিক মন্ত্রণালয়—গৃহায়ণ ও গণপূর্ত, তথ্য ও সম্প্রচার, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক, সংস্কৃতি ও ধর্ম বিষয়ক—এর উপদেষ্টা ও কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তরিক সহযোগিতায় বিদেশি প্রতিনিধিরা সরাসরি উপস্থিত হয়ে শ্রদ্ধা জানিয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী তার মায়ের প্রতি গভীর সম্মানের প্রতিফলন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তারেক রহমান বার্তায় উল্লেখ করেন সংবাদমাধ্যমের অবদানের কথাও। বিপুল জনসমাগম, আবেগে ভরা পরিবেশ ও কঠিন নিরাপত্তা পরিস্থিতির মাঝেও দেশ-বিদেশের সাংবাদিকরা দায়িত্বশীল ও নিষ্ঠাবান ছিলেন জানিয়ে তিনি বলেন, “জানাজার নামাজ ও দাফনের খবর, ছবি ও ভিডিও সারা বিশ্বে পৌঁছে দিয়েছে তাঁরা। তাঁদের প্রতি আমার আন্তরিক শ্রদ্ধা ও হৃদয়ের গভীর থেকে ধন্যবাদ।”
অবশেষে তিনি ধন্যবাদ জানান মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুস (Muhammad Yunus) এবং তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যদের। শোকের মুহূর্তে তাঁদের ব্যক্তিগত উপস্থিতি ও শান্তি বজায় রাখতে সহযোগিতাকে ‘অমূল্য সমর্থন’ বলে বর্ণনা করেছেন তারেক রহমান।
বার্তার শেষ অংশে তারেক রহমান বলেন, “আমি আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই; প্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, মানুষ হিসেবে। গভীর শোকের এই সময়ে আপনারা যে সহমর্মিতা, সম্মান এবং দায়িত্ববোধ দেখিয়েছেন, তা আমাদের হৃদয় স্পর্শ করেছে।”
তিনি এই বিদায় পর্বে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সেই ‘শক্তি’ হিসেবে উল্লেখ করেন, যাঁদের কারণে জাতি মর্যাদার সঙ্গে তাঁর মা’র স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতে পেরেছে। তিনি বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ।”


