দলীয় কার্যক্রম স্থগিত থাকায় এবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয়ভাবে অংশ নিতে পারছে না আওয়ামী লীগ (Awami League)। তবে দলটির অনেক তৃণমূল নেতা স্বতন্ত্র কিংবা ভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে প্রার্থী হয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। টাঙ্গাইল, রাজশাহী, নরসিংদী ও সাতক্ষীরাসহ দেশের বিভিন্ন আসনে আওয়ামী লীগ ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিরা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।
টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনে দুই নেতা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ভিন্ন পরিচয়ে। জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি তারেক শামস খান হিমু এবার জাতীয় পার্টি (জেপি) (Jatiya Party-JP) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তিনি পূর্বে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন, তবে মনোনয়ন না পেয়ে আগের নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। এবারের নির্বাচনে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি সাড়া দেননি।
একই আসনে আরেকজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন ব্যারিস্টার মুহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম। দেলদুয়ারের কাতুলী গ্রামের এই প্রার্থী যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগেরও কেন্দ্রীয় সদস্য। তিনিও পূর্বে মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন। আশরাফুল জানান, জনভিত্তিক সমর্থনের ওপর ভরসা করে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। তাঁর ভাষায়, “নারী-পুরুষের ভালোবাসার ভোটই আমাকে বিজয়ী করবে।”
অন্যদিকে টাঙ্গাইল-১ (মধুপুর-ধনবাড়ী) আসনে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) মনোনীত প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অ্যাডভোকেট মুহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। তিনি আওয়ামীপন্থী সম্মিলিত আইনজীবী পরিষদের নেতা ছিলেন। টাঙ্গাইল বারে কার্যকরী সদস্য ও যুগ্ম সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। ইলিয়াস বলেন, “আমি আওয়ামী লীগে সক্রিয় বা পদধারী ছিলাম না, তবে এখন জাতীয় পার্টির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে মাঠে নেমেছি।”
নরসিংদী-৫ (রায়পুরা) আসনে কেন্দ্রীয় যুবলীগের সদস্য ব্যারিস্টার তৌফিকুর রহমান এবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী। তিনি বঙ্গবন্ধুর বোন আমেনা বেগম এবং শহীদ আবদুর রব সেরনিয়াবাতের নাতি। কয়েকবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েও পাননি তিনি।
রাজশাহীতেও একই চিত্র। রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর) আসনে কৃষক লীগের নারী নেত্রী হাবিবা বেগম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছেন। মোহনপুরের সিংহমারা গ্রামের বাসিন্দা হাবিবা ছিলেন স্থানীয় ইউপির সংরক্ষিত নারী সদস্য। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদের ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত।
রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর) আসনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করা আওয়ামীমনা আইনজীবী রায়হান কাওসারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিচ্ছেন। তিনি পেশাগত জীবনে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী।
সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে জেলা আওয়ামী লীগের কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সরদার মুজিব স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। তিনি বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকও ছিলেন। ২০১৪ সালের নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন তিনিও।
এইসব প্রার্থিতা স্পষ্টতই দেখিয়ে দেয়, দলীয় নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও ভিন্ন পথ খুঁজে নিচ্ছেন আওয়ামী লীগ ঘরানার নেতারা। কেউ জাতীয় পার্টি, কেউ স্বতন্ত্র পরিচয়ে হলেও আওয়ামী লীগ-ঘনিষ্ঠ এই প্রার্থীরা নির্বাচনী মাঠে রয়েছেন সক্রিয়ভাবে।


