রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে স্কুল খোলা রাখায় প্রধান শিক্ষককে পুলিশের হাতে তুলে দিল বিক্ষুব্ধরা

রাষ্ট্রীয় শোক দিবস উপেক্ষা করে স্কুল খোলা রাখা এবং শিক্ষকদের উপস্থিত থাকতে বাধ্য করার অভিযোগে খুলনার খালিশপুরের বঙ্গবাসী স্কুলের প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে লাঞ্ছিত করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন বিক্ষুব্ধরা।

বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। পরে কোনো লিখিত অভিযোগ না থাকায় তাকে থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

স্থানীয়রা জানান, ৩১ ডিসেম্বর রাষ্ট্রীয় সাধারণ ছুটি ও শোক দিবস থাকা সত্ত্বেও প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন নোটিস জারি করে স্কুল খোলা রাখেন এবং সব শিক্ষককে উপস্থিত থাকতে নির্দেশ দেন। এ ঘটনায় সাধারণ শিক্ষক ও স্থানীয়রা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। এক পর্যায়ে বিক্ষুব্ধরা তাকে স্কুলের ভেতরে অবরুদ্ধ রেখে লাঞ্ছিত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে খালিশপুর থানায় নিয়ে আসে।

থানার ওসি তৌহিদুর রহমান জানান, পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে কেউ লিখিত অভিযোগ না দেওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

এদিকে এ ঘটনায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের মনিটরিং অ্যান্ড ইভ্যালুয়েশন উইং এবং অভিযোগ নিষ্পত্তি কর্মকর্তা (অনিক) প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেনকে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছেন। অধিদপ্তরের পরিচালক প্রফেসর কাজী মো. আবু কাইয়ুম স্বাক্ষরিত চিঠিতে বলা হয়, অভিযোগ প্রতিকার ব্যবস্থা-সংক্রান্ত নির্দেশিকা ২০১৫ (পরিমার্জিত ২০১৮) অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাইয়ের জন্য আগামী ৪ জানুয়ারি সকাল ১০টায় অফিস কার্যালয়ে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ও মৌখিক বক্তব্য দিতে হবে।

জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার সাইদুর রহমান জানান, রাষ্ট্রীয় শোক দিবসে ছুটি থাকা সত্ত্বেও স্কুল খোলা রাখার অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে এবং এ কারণেই প্রধান শিক্ষককে ঢাকায় হাজির হয়ে জবাব দিতে বলা হয়েছে।

অভিযোগ অস্বীকার করে দেলোয়ার হোসেন বলেন, ৩০ তারিখ স্কুলে বার্ষিক পরীক্ষার রেজাল্ট বিতরণ শেষে ম্যাডামের জন্য দোয়ার আয়োজন করি। টেস্ট পরীক্ষায় কিছু শিক্ষার্থী ফেল করায় তাদের সমস্যা সমাধান এবং ১ জানুয়ারি নতুন বই বিতরণের প্রস্তুতি হিসেবে কয়েকজন শিক্ষককে ৩১ তারিখ স্কুলে আসতে বলা হয়। ক্লাস সিক্সের একজন ছাত্রী রেজাল্ট ভালো করায় সে স্যারদের জন্য মিষ্টি এনেছিল। এ বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। একটি পক্ষ পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য এসব করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *