ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় প্রার্থিতা বাতিল হয়েছেন অন্তত ৩৭ জন। এর মধ্যে পাঁচজন বিএনপি বিদ্রোহী প্রার্থী রয়েছেন, যারা কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন।
ইসির যাচাই-বাছাই চলবে আগামী ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। এরপর আপিল ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সময়সীমা পার হয়ে ১২ ফেব্রুয়ারি ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
চট্টগ্রাম-১১: ঋণখেলাপিতে বিএনপি বিদ্রোহীর প্রার্থিতা বাতিল
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন ১২ জন। অতিরিক্ত আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা মোহাম্মদ সাখাওয়াৎ হোসেন জানান, যাচাই-বাছাইয়ে চারজনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।
তাদের মধ্যে রয়েছেন বিএনপির বিদ্রোহী এ কে এম আবু তাহের। সিআইবি প্রতিবেদনে তাঁকে ঋণখেলাপি হিসেবে চিহ্নিত করায় তাঁর মনোনয়ন বাতিল করা হয়। এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হলেন আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
যশোর-১: দুই বিদ্রোহীর প্রার্থিতা বাতিল
যশোর-১ (শার্শা) আসনে সাবেক এমপি ও বিএনপির বিদ্রোহী মফিকুল হাসান তৃপ্তি এবং উপজেলা বিএনপির সভাপতি আবুল হাসান জহিরের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তৃপ্তির মনোনয়ন বাতিল হয় দলীয় মনোনয়নপত্র না দেওয়ায় এবং জহিরের বাতিল হয় ভোটার স্বাক্ষর সংক্রান্ত ত্রুটির কারণে।
যশোর-২: বিএনপি আর বিএনপি বিদ্রোহী দুজনই বাদ
এই আসনে দলীয় মনোনয়ন না পাওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানো বিএনপি নেতা মোহাম্মদ ইসহাক ও জহুরুল ইসলাম মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। যাচাইয়ে তাদের মনোনয়ন বাতিল হয় দলীয় অনুমোদনপত্রের অনুপস্থিতির কারণে।
জামায়াত প্রার্থী ডা. মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়ন ব্যাংক ঋণ (ক্রেডিট কার্ড) সংক্রান্ত জটিলতায় বাতিল হয়েছে। পাশাপাশি স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসানের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ভোটার তালিকায় ত্রুটির কারণে।
এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী শামসুল হক এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী ফিরোজ শাহর মনোনয়নপত্রও টিআইএন ও ব্যাংক তথ্য ঘাটতির কারণে বাতিল করা হয়েছে।
মুন্সীগঞ্জ-১: কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতাসহ দুজনের প্রার্থিতা বাতিল
মুন্সীগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান-শ্রীনগর) আসনে মনোনয়ন জমা দেওয়া সাত প্রার্থীর মধ্যে দুজনের প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। দলীয় সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া কেন্দ্রীয় বিএনপি নেতা মীর সরাফত আলী সপু ও মমিন আলীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। তাদের মনোনয়নপত্রে এক শতাংশ ভোটার তালিকায় গরমিল ছিল বলে জানা গেছে। এ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হলেন মো. আবদুল্লাহ।
অন্যান্য দলের প্রার্থিতা বাতিল
এই তালিকায় আরও রয়েছেন জাতীয় পার্টির চারজন, জামায়াতে ইসলামীর একজন, এনসিপির একজন, গণঅধিকার পরিষদের একজন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একজন, খেলাফত মজলিসের একজন, গণসংহতি আন্দোলনের একজন এবং বাকিরা সবাই স্বতন্ত্র প্রার্থী।
যাচাই-বাছাইয়ের এই প্রাথমিক পর্যায়েই যে সংখ্যক প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, তা নির্বাচনী চিত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


