১৭ বছরে অমুক্তিযোদ্ধাদের মুক্তিযোদ্ধা বানিয়ে সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে: মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদের অভিযোগ

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেছেন, গত ১৭ বছরে অনেক অমুক্তিযোদ্ধাকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার ফলে মুক্তিযোদ্ধার সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। তিনি জানান, এসব তালিকা নতুন করে যাচাই-বাছাই করা হবে এবং প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হবে।

মন্ত্রী বলেন, মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি একটি গৌরবের বিষয়। কিন্তু যদি অমুক্তিযোদ্ধারা সেই তালিকায় ঢুকে পড়েন, তাহলে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়। তাই সরকার এখন তালিকা পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য নিশ্চিত করতে চায়।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থাকলেও দেশের যেসব স্থানে ১৯৭১ সালে সরাসরি মুখোমুখি যুদ্ধ হয়েছিল, সেসব গুরুত্বপূর্ণ স্থান সংরক্ষণের জন্য কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়নি। ফলে স্থানীয় অনেক মানুষই আজ জানেন না যে তাদের এলাকার মাটিতে কী ধরনের ঐতিহাসিক ঘটনা ঘটেছিল।

হাফিজ উদ্দিন আহমেদ বলেন, ইতিহাসকে সংরক্ষণ করা শুধু দায়িত্ব নয়, এটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্যও অপরিহার্য। তাই যেসব এলাকায় মুক্তিযুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ লড়াই সংঘটিত হয়েছিল, সেসব স্থান চিহ্নিত করে সেখানে স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম সরাসরি সেই ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার সুযোগ পাবে।

বুধবার (৫ মার্চ) রাজধানীর মগবাজারে আয়োজিত এক ইফতার মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এই ইফতার অনুষ্ঠানের আয়োজন করে মুক্তিযুদ্ধ কাউন্সিল

অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে মন্ত্রী আরও জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের কল্যাণে সরকার নতুন কিছু উদ্যোগ গ্রহণের পরিকল্পনা করছে। এর মধ্যে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানী ভাতা বৃদ্ধি এবং তাদের জন্য বিশেষভাবে ফ্ল্যাট নির্মাণের ব্যবস্থা।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া মুক্তিযোদ্ধাদের যথাযথ মর্যাদা দেওয়ার লক্ষ্যে প্রথম মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। তার সেই উদ্যোগ মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *