বগুড়া-২ আসনে মাহমুদুর রহমান মান্নার মনোনয়ন বাতিল

বগুড়া-২ (শিবগঞ্জ) আসনে নাগরিক ঐক্যের মনোনীত প্রার্থী মাহমুদুর রহমান মান্না-র মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। শুক্রবার দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে যাচাই–বাছাই শেষে এই সিদ্ধান্ত জানান জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তৌফিকুর রহমান (Md. Toufiqueur Rahman)।

রিটার্নিং কর্মকর্তা জানান, মান্নার হলফনামায় একাধিক অসংগতি পাওয়া গেছে। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা ফৌজদারি মামলার তথ্য গোপন করা হয়েছে, এফিডেভিটে স্বাক্ষরের তারিখ ও সম্পাদনের দিন আলাদা, এমনকি সম্পদ বিবরণী ফরমও দাখিল করা হয়নি। এসব কারণে প্রার্থিতা বাতিল করা হয়েছে। তবে তিনি আপিল করতে পারবেন।

মনোনয়ন যাচাইয়ে মান্নার প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিব আনোয়ার। তিনি বলেন, “নোটারি পাবলিকের এফিডেভিটে মান্না একই দিনেই স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের চাপেই রিটার্নিং কর্মকর্তা মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।” তিনি আরও জানান, আপিলের মাধ্যমে প্রার্থিতা ফিরে পেতে আশাবাদী তারা।

এদিকে একই আসনের অপর প্রার্থী, জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য শরিফুল ইসলাম জিন্নাহ-র মনোনয়নপত্রও বাতিল করা হয়েছে।

এর আগে ২৯ ডিসেম্বর, ঋণখেলাপি তালিকায় (সিআইবি) নাম অন্তর্ভুক্তির বিরুদ্ধে মান্নার দায়ের করা রিটের প্রেক্ষিতে, আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত আট সপ্তাহের জন্য ওই কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দেয়। তাঁর আইনজীবী সৈয়দ মামুন মাহবুব জানান, এ সিদ্ধান্তের ফলে নির্বাচন অংশগ্রহণে আর কোনো আইনি বাধা নেই।

উল্লেখ্য, আফাকু কোল্ডস্টোরেজ লিমিটেডের অংশীদার মান্নার বিরুদ্ধে ইসলামী ব্যাংকের বগুড়া শাখা থেকে নেওয়া ঋণ ঘিরে সিআইবি তালিকায় নাম ওঠার প্রক্রিয়া শুরু হয়। ঋণখেলাপি হিসেবে বিবেচিত হলে তাঁর প্রার্থীতা বাতিল হতে পারত, যার বিরুদ্ধে আগেই উচ্চ আদালতের আশ্রয় নেন তিনি।

ডাকসু-র দুইবারের ভিপি, সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা মাহমুদুর রহমান মান্না এবার বিএনপির সমর্থন পেয়েছেন। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ২৪ ডিসেম্বর এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, বগুড়া-২ আসনটি মিত্রদলের নেতা মান্নাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। তবে একই আসনে বিএনপি নেতা মীর শাহে আলমও মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন।

নির্বাচন কমিশনের তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়ন বাতিলের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে আপিল করা যাবে। আপিল নিষ্পত্তি হবে ১০ থেকে ১৮ জানুয়ারির মধ্যে। প্রার্থিতা প্রত্যাহার ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত এবং প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে ১২ ফেব্রুয়ারি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *