ঢাকা-৯ আসনে সংসদ সদস্য পদে নির্বাচনের জন্য ক্রাউড ফান্ডিংয়ের মাধ্যমে অনুসারীদের কাছ থেকে প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকা অর্জন করেছিলেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব তাসনিম জারা। এরই মধ্যে এনসিপি থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। বলেন, তার নতুন সিদ্ধান্তের ফলে কেউ চাইলে বিকাশ ও ব্যাংকের মাধ্যমে দেওয়া অর্থ ফেরত চাইতে পারেন। তবে ঢাকা-৯ আসনের জন্য মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার পর তাসনিম জারার হলফনামা থেকে জানা গেছে, ক্রাউড ফান্ডিংয়ে পাওয়া প্রায় ৪৭ লক্ষ টাকার পুরোটাই নির্বাচনে ব্যয় করছেন তিনি।
গত ২২ ডিসেম্বর ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় তাসনিম জারা ক্রাউড ফান্ডিং শুরু করেন। ওই ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, আমার আসনে ভোটার সংখ্যা প্রায় ৪ লাখ ৭০ হাজার। নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী এই নির্বাচনে আমি মোট ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার ৫৮০ টাকা ব্যয় করতে পারব। আমি এই টাকাটা আপনাদের কাছ থেকে চাই।
এরপর বিকাশ এবং ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাঠাতে শুরু করেন তাসনিম জারার অনুসারীরা। ফলে ২৫ ডিসেম্বরের মধ্যেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণে সক্ষম হন তাসমিন জারা। তবে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ৮ দলের আসন সমঝোতায় এনসিপির অংশ নেওয়ার ঘটনায় এর বিরোধিতা করে ২৭ ডিসেম্বর দল থেকে পদত্যাগ করেন তাসনিম জারা। পরবর্তীতে এক পোস্টে তিনি জানান, কেউ চাইলে এই অর্থ তিনি ফেরত দিয়ে দিবেন।
ওই পোস্টে তিনি লেখেন, কিছুদিন আগে নির্বাচনী ফান্ডরেইজিংয়ের সময় আপনারা অনেকে ডোনেট করেছেন। আমার এই পরিবর্তিত সিদ্ধান্তের কারণে (স্বতন্ত্র হিসেবে লড়াই করা) যারা ডোনেট করা অর্থ ফেরত পেতে চান, তাদের প্রতি আমার শ্রদ্ধা। যারা বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠিয়েছেন তারা অর্থ ফেরত পেতে নিচে দেয়া এই ফর্মটি পূরণ করুন: https://forms.gle/NKTkkNVZvUvyrsGYA. আপনাদের ট্রাঞ্জাকশন আইডি ও ডিটেইলস ভেরিফাই করার পরে অর্থ ফেরত দেয়া হবে। আর যারা ব্যাংকের মাধ্যমে পাঠিয়েছিলেন, তাদেরকে শীঘ্রই জানাবো কী প্রক্রিয়ায় আপনাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে।
তবে তাসনিম জারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সংগ্রহ করা প্রায় ৪৭ লাখ টাকা ব্যয় করে নির্বাচনের খরচ চালাবেন তার হলফনামায় উল্লেখ করেছেন। হলফনামায় নির্বাচনের ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ প্রাপ্তির সম্ভাব্য উৎসের বিবরণীতে এ তথ্য উল্লেখ করেছেন তিনি। সেখানে তাসনিম জারা বলেছেন, জনসাধারণ থেকে ‘ক্রাউড ফান্ডিংয়ের’ (গণ–অনুদানের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ) মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করেছেন। ওই অর্থের পরিমাণ ৪৬ লাখ ৯৩ হাজার টাকা।
নির্বাচনের ব্যয় নির্বাহে তাসনিম জারা তার ব্যাংক আমানত ও অন্যান্য আয়ের অর্থ হিসেবে ২৩ লাখ টাকার পাশাপাশি ৩ হাজার ২০০ ব্রিটিশ পাউন্ডের কথা উল্লেখ করেছেন। পেশা হিসেবে চিকিৎসকের পাশাপাশি শিক্ষকতা ও উদ্যোক্তার কথা উল্লেখ করেছেন তাসনিম জারা। ৩১ বছর বয়সী তাসনিম জারা আয়ের মূল উৎস হিসেবে চাকরির কথা উল্লেখ করেছেন। হলফনামায় তিনি বলেছেন, দেশের ভেতরে চাকরি করে বছরে ৭ লাখ ১৩ হাজার টাকা আয় করেন। এ ছাড়া শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে দেশের ভেতরে তার বছরে আয় ২৬৪ টাকা। আর দেশের বাইরে এ খাত থেকে তার আয় হয় ৩ হাজার ২০০ ব্রিটিশ পাউন্ড।
হলফনামা অনুযায়ী, তাসনিম জারার অস্থাবর সম্পদের মূল্য ২২ লাখ ৩০ হাজার ১৯০ টাকা। তার কোনো স্থাবর সম্পদ নেই। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ ১৬ লাখ টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা ৩ লাখ ৭০ হাজার টাকা মূল্যের ২ হাজার ২৭০ পাউন্ড, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে জমা আছে ১০ হাজার ১৯০ টাকা এবং আড়াই লাখ টাকা মূল্যের সোনা ও অন্যান্য মূল্যবান ধাতু রয়েছে। সর্বশেষ ২০২৫–২৬ অর্থবছরে আয়কর রিটার্ন জমার বিবরণীতে তাসনিম জারা বছরে ৭ লাখ ১৩ হাজার ৫৯৭ টাকা আয় দেখিয়েছেন। আয়কর রিটার্নে সম্পদের পরিমাণ দেখিয়েছেন ১৯ লাখ ১৩ হাজার ৫০৯ টাকা। আর আয়কর দিয়েছেন ৩৪ হাজার ৫৭ টাকা।
হলফনামা স্বামী খালেদ সাইফুল্লাহর পেশায় একজন উদ্যোক্তা এবং সরকারি চাকরিজীবী বলে উল্লেখ করেছেন তাসনিম জারা। তার দেশের ভেতরে কোনো আয় নেই। তবে দেশের বাইরে বছরে ৩৫ হাজার ব্রিটিশ পাউন্ড আয় করেন। আর শেয়ার, বন্ড বা সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় করেন ৪ হাজার ৮০০ ব্রিটিশ পাউন্ড। তাসনিম জারার স্বামীর অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ২৫ লাখ টাকা। এর মধ্যে নগদ ১৫ লাখ টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রা আছে ১০ লাখ টাকা মূল্যের। তার স্বামীরও কোনো স্থাবর সম্পত্তি নেই।


