বিএনপি-র চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া-র মৃত্যুতে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক শেষ হওয়ার পর শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শনিবার সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া আবেগঘন এক পোস্টে তিনি দেশ-বিদেশের জনগণ, প্রতিষ্ঠান ও প্রশাসনের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
তারেক রহমান লেখেন, “মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার জন্য তিন দিনের রাষ্ট্রীয় শোক সমাপ্ত হয়েছে। এই সময় দেশজুড়ে এবং বিদেশে অবস্থানরত শুভানুধ্যায়ীদের কাছ থেকে প্রাপ্ত ভালোবাসা, সমবেদনা ও দোয়া আমাদের পরিবারকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে।”
তিনি বলেন, “আমরা উপলব্ধি করেছি, আমার মা ভিন্ন-ভিন্ন মানুষের কাছে ভিন্ন-ভিন্ন তাৎপর্য বহন করতেন। অনেকের কাছে তিনি ছিলেন আপসহীনতার প্রতীক, নিজের বিশ্বাসের পক্ষে সাহসের সঙ্গে দাঁড়ানোর এক অনন্য অনুপ্রেরণা।”
পোস্টে তারেক রহমান আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং তাঁর উপদেষ্টা পরিষদের প্রতি। তিনি বলেন, “তাঁদের দ্রুত সমন্বয় ও নেতৃত্বের কারণেই এই বিরল ও সম্মানজনক অন্তিম আয়োজন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে।”
তিনি উল্লেখ করেন, বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক মিশনের শোকবার্তা, সহমর্মিতা এবং জানাজায় সম্মানিত অতিথিদের উপস্থিতি তাঁদের হৃদয়কে আলোড়িত করেছে। “সামাজিক মাধ্যমে অগণিত মানুষের অনুভূতি, শোক বইয়ে লেখা কথা এবং রাষ্ট্রীয় সম্মান—সবকিছুই ছিল অভূতপূর্ব,” বলেন তারেক।
তিনি বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানান সশস্ত্র বাহিনী, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্ট এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনকে। প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টের “শেষ সালাম ও গার্ড অব অনার”-কে তিনি বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
তারেক রহমান আরও বলেন, “অনেকে আছেন, যাঁরা নাম প্রকাশ না করেই এই আয়োজন সফল করতে সহায়তা করেছেন—তাঁদের প্রতিও আমাদের আন্তরিক কৃতজ্ঞতা। আলহামদুলিল্লাহ, এই সম্মানিত বিদায় সম্ভব হয়েছে আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও নীরব সহযোগিতার কারণেই।”
সবশেষে, দেশের সাধারণ জনগণের প্রতি বিশেষ কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি লেখেন, “দেশের প্রতিটি প্রান্ত থেকে মানুষ যেভাবে একত্রিত হয়ে দেশনেত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন—এটা আমাদের পরিবার কখনও ভুলবে না। এই ঐক্যই আমাদের আগামীর পথচলায় শক্তি ও সাহস জোগাবে।”


