রোল ২২ থেকে ২ : নিজের সাফল্য দেখে যাওয়া হলো সেই শিশু আয়েশার

দুর্বৃত্তদের আগুনে পুড়ে মারা গেছে দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী আয়েশা আক্তার বিনতি (৮)। এবার তার তৃতীয় শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার কথা ছিল। সবশেষ দেওয়া বার্ষিক পরীক্ষায় ভালো ফলাফলও হয়েছে। রোল নম্বর ২২ থেকে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে সে। তবে আয়েশার শুধু নামটুকুই থেকে গেছে। নিজের সাফল্যও দেখে যেতে পারেনি সে। তার এমন সাফল্যে অভিভাবক, সহপাঠী ও শিক্ষকদের মুখে হাসি ফোটার কথা থাকলেও এখন সবার চোখ অশ্রুসিক্ত।

দ্বিতীয় স্থান অর্জন করলেও তৃতীয় শ্রেণির কক্ষে রোল কলের সময় আয়েশাকে খুঁজে পাওয়া যাবে না। রোল দুই কল করার সঙ্গে সঙ্গে আয়েশা আর বলে উঠবে না প্রেজেন্ট স্যার। কারণ সেতো আর নেই। আগুনে ঝলসে যার মৃত্যু হয়, সে কি আর বলবে উপস্থিত স্যার? তার অসাধারণ সাফল্য আজ তাই শোকের বার্তা হয়ে থেকে গেলো।

রোববার (৪ ডিসেম্বর) রাতে আয়েশার বাবা বিএনপি নেতা বেলাল হোসেন বলেন, ‘আমার মেয়েটাতো নেই। যখন শিক্ষক তার ফলাফলের কথা জানিয়েছে, তখন বুকফাটা কান্না ছাড়া আর কিছুই আমার নেই। ফলাফল দিয়ে এখন আমি কী করবো।’

বেলালের তিন মেয়ের মধ্যে আয়েশা সবার ছোট। তার বড় নেয়ে সালমা আক্তার স্মৃতিও (১৮) আগুনে শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।

স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ৫ ডিসেম্বর মুঠোফোনের মাধ্যমে বিদেশে থাকা এক প্রবাসীর সঙ্গে সালমার বিয়ে হয়েছিল। কিন্তু শ্বশুর বাড়িতে যাওয়া হয়নি তার। আগুনে তার শ্বাসনালিসহ শরীরের ৯০ শতাংশ পুড়ে গিয়েছিল। শরীরে এমন কোনো জায়গা ছিল না, যেখানে দগ্ধ হয়নি।

এক আগুনে দুই মেয়েকে হারিয়ে বেলাল হোসেন ও নাজমা বেগম দম্পতি শোকের সাগরে নিমজ্জিত। মেজো মেয়ে সামিয়া শরীরের ২ শতাংশ পুড়েছিল, তবে প্রাথমিক চিকিৎসা দিলেও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়নি৷

বেলাল হোসেন বলেন, আমার দুটি সন্তান একসঙ্গে পুড়ে মারা গেছে। অনেক আদর যত্নে তাদের বড় করেছি। এক আগুনে পুড়ে সব ছাই হয়ে গেছে। ছোট মেয়েটা আব্বু আব্বু বলে ডাকলেও তাকে বাঁচাতে পারিনি। তার সেই ডাক আমাকে প্রতিনিয়ত যন্ত্রণা দিচ্ছে।

তিনি আরও জানান, আয়েশার জানাজা ও দাফনের সময় তিনি সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। জানাজায় অংশ নিতে পারেননি। বড় মেয়েকে ঢাকায় নেওয়ার সময়ও যেতে পারেননি। আইসিইউতে মারা যাওয়ার খবর পেয়েও শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঢাকায় পৌঁছাতে পারেননি তিনি। দুই মেয়েকে পাশাপাশি কবর দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, পুরো ঘরে ছাই হয়ে গেছে। এতে স্ত্রী সন্তান নিয়ে তিনি এখন ভাইয়ের ঘরের বারান্দায় থাকছেন।

সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ বলেন, মামলাটি তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় এখনো কেউ আটক নেই।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *