কিশোরগঞ্জের ভৈরবে চলন্ত ট্রেনে বিনা টিকিটের যাত্রীদের টিকিট কাটতে বলায় এক সিনিয়র ট্রেন টিকিট পরীক্ষকের (টিটিই) সাথে ছাত্র পরিচয়ে কয়েকজনের বাগবিতণ্ডা হয়েছে।
এ সময় তারা টিটিইকে ‘দেশ স্বাধীন করেছি, টিকিট লাগবে কেন’ বলে শাসিয়েছেন। এরপর স্টেশনে ট্রেন থামলে নেমে গিয়ে টিটিকে মারধর করারও অভিযোগ উঠেছে ছাত্র পরিচয়ধারীদের বিরুদ্ধে।
সোমবার (৫ জানুয়ারি) বিকেলে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এদিকে টিটিইকে প্রকাশ্যে মারধরের ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
জানা যায়, বেলা ৩টার দিকে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চট্টগ্রামগামী চট্টলা এক্সপ্রেস ট্রেনটি বিমানবন্দর স্টেশন পার হওয়ার পর টিকিট চেকিং শুরু করেন রেলওয়ের সিনিয়র টিটিই তানজিম ফরাজি। টঙ্গী স্টেশন ছাড়ার পর ৮-১০ জন যাত্রী নিজেদের ছাত্র পরিচয় দিয়ে টিকিট ছাড়াই ভ্রমণ করছেন বলে জানান।
টিটিই তাদের টিকিট কাটার অনুরোধ করলে তারা বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। এসময় ছাত্র পরিচয়ধারীরা টিটিইকে শাসান। তাদের সঙ্গে থাকা বিনা টিকিটে ট্রেন ভ্রমণকারী একজন মধ্যবয়স্ক যাত্রীর কাছ থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত ২২০ টাকা ভাড়া আদায় করলে ওই যুবকরা টিটিইর প্রতি চরম ক্ষিপ্ত হন। কিছুক্ষণ পর ভৈরব বাজার (জং) স্টেশনে ট্রেনটি পৌঁছালে টিটিই গাড়ি থেকে নামার পর ওই যাত্রীরা টিটিকে স্টেশন এলাকায় এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করেন।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, ওই যুবকদের মারমুখী আচরণ থেকে তারা টিটিইকে উদ্ধার করেন। তারা বলেন, আমরা না বাঁচালে আজ বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যেত। হামলাকারীরা ভৈরবের বাইরের লোক, তারা আমাদের এলাকার সুনাম নষ্ট করছে। আমরা তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী সিনিয়র টিটিই তানজিম ফরাজি বলেন, ছাত্র পরিচয়দানকারী যাত্রীরা নিজেদের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বলে জানায়।
তারা বলে– তারাই দেশ স্বাধীন করেছে, তাদের টিকিট লাগে না। আমি ভৈরব পর্যন্ত ডিউটি শেষ করে ট্রেন থেকে নেমে যাই। ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের পাশের মসজিদে নামাজ পড়তে যাওয়ার মুহূর্তে ওই যাত্রীরা এসে আমাকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় উঠিয়ে নিয়ে যেতে চায়। আমি না যেতে চাইলে আমাকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করব। তবে আমি তাদের পরিচয় জানতে পারিনি।
ভৈরব বাজার (জং) রেলওয়ে স্টেশন মাস্টার মো. ইউসুফ বলেন, ‘আমি বিষয়টি জানার পর থেকে খোঁজ-খবর নিচ্ছি। কারা তাকে মেরেছে এ বিষয়ে আমরা জানার চেষ্টা করছি। যতটুকু জেনেছি তাদের বাড়ি ভৈরবে না।’
এ বিষয়ে ভৈরব রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাঈদ আহমেদ বলেন, টিটিইকে মারধরের বিষয়টি আমি অবগত হয়েছি। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


