আসন বন্টনে জামায়াত জোটে জট!!

একাদশ সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ১১ দলের নির্বাচনী সমঝোতায় আসন বণ্টন নিয়ে দেখা দিয়েছে জটিলতা। বিশেষ করে বিভিন্ন আসনে মনোনয়নপত্র বাতিলের কারণে কে কোন আসনে নির্বাচন করবেন—তা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। তবে দলগুলোর নেতারা আশ্বস্ত করছেন, নির্বাচনী সমঝোতা ভেঙে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই।

জোটের বৈঠক আজ (বুধবার) অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আশাবাদী নেতারা বলছেন, আপিলের ফলাফলের পরেই চূড়ান্ত আসন বণ্টন সম্ভব হবে।

জোটে জামায়াতের প্রাধান্য, চরমোনাই পীরের দলেও অসন্তোষ
১১ দলীয় জোট সূত্র জানায়, জামায়াত এনসিপিকে ৩০টি, মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৩টি, খেলাফত মজলিসের অপর অংশ এবং এলডিপিকে ৬টি করে, এবি পার্টি ও খেলাফত আন্দোলনকে ৩টি করে, নেজামে ইসলামকে ২টি, জাগপা ও বিডিপিকে ১টি করে আসন ছাড়তে সম্মত হয়েছিল। সব মিলিয়ে ৬৫টি আসন।

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সঙ্গে জামায়াতের সমঝোতা হয়েছিল ১৮৩টি আসনে। এর মধ্যে প্রথম দফায় জামায়াত ৩১টি আসন ছাড়তে রাজি হয়েছিল। বাকি ৫২টি আসন নিজেদের মধ্যে জরিপের ভিত্তিতে ভাগ হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়েছিল।

মনোনয়ন বাতিলের ধাক্কা
তবে মনোনয়নপত্র বাতিলে সব পরিকল্পনা এলোমেলো হয়ে গেছে। কুড়িগ্রাম-৩, যশোর-২, ঢাকা-২, কক্সবাজার-২ আসনে জামায়াত প্রার্থী থাকলেও তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে। অথচ এই আসনগুলোতে তারা ১১ দলের সমর্থনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার পরিকল্পনা করেছিল।

জামায়াত ২৭৬টি আসনে প্রার্থী দিয়েছিল, যাদের মধ্যে ৯ জনের মনোনয়ন বাতিল হয়েছে। ইসলামী আন্দোলনের ২৬৬ প্রার্থীর মধ্যে ৩৯ জনের মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে গৃহীত হয়নি। এনসিপির ৪৪ আসনের মধ্যে ৩টিতে, বাংলাদেশ খেলাফতের ৯৬ আসনের মধ্যে ১১টিতে মনোনয়ন বাতিল হয়েছে।

উল্লেখযোগ্য উদাহরণ হলো মুন্সীগঞ্জ-৩ আসন। এখানে বাংলাদেশ খেলাফতের প্রার্থী নুর হোসাইন নুরানীর পক্ষে জামায়াত প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেননি। কিন্তু বাছাইয়ে নুরানী বাদ পড়েছেন। এখন ইসলামী আন্দোলন এবং খেলাফত মজলিসের অপরাংশের প্রার্থীরা বৈধ হয়েছেন। ফলে এই আসনে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন, তা নিয়ে জটিলতা দেখা দিয়েছে।

ভোলা-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী (হাতপাখা প্রতীক) বাতিল হয়েছেন। সিলেট-১-এ এনসিপির প্রার্থীও বাদ পড়েছেন। জাগপাকে একটি আসন ছেড়ে দিলেও সেই প্রার্থীর মনোনয়নও বাতিল হয়েছে।

চাহিদা বাড়ছে, ছাড় কমছে
বাংলাদেশ খেলাফত তাদের জন্য ২৫টি আসন চাইলেও জামায়াত মাত্র ১৩টি দিতে চায়। আবার যদি কোনো আসনে আপিলে মনোনয়ন ফিরে আসে, তাহলে বিকল্প আসন না দিয়ে সেই আসনেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার দাবি জানানো হচ্ছে।

ঢাকা-২ আসন ইসলামী আন্দোলনকে ছাড়ার বিষয়ে জামায়াত আগ্রহ দেখালেও তার বিনিময়ে অন্য একটি আসন ফিরিয়ে নিতে চাইছে। এতে রাজি নয় চরমোনাই পীরের দল।

নেতাদের অবস্থান
১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “আসন বণ্টন আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার পথে। কিছু মনোনয়ন বাতিল হয়েছে রাজনৈতিক পক্ষপাতের কারণে। আশা করি, নির্বাচন কমিশন এতে প্রতিকার দেবে।”

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব ইউনুস আহমেদ সেখ বলেন, “মনোনয়ন বাতিলের কারণে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। আপিলের পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হবে। তবে প্রার্থীরা মাঠে কাজ করছেন। তাই বিলম্ব হলেও নির্বাচনে অংশগ্রহণে কোনো সমস্যা হবে না।”

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *