বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আয়ের হিসাব ও সম্পদের পরিমাণ নিয়ে সমালোচনার মুখে নিজেকে স্বচ্ছ রাজনীতিক দাবি করলেন নাহিদ ইসলাম। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত এক স্ট্যাটাসে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেন।
বাৎসরিক আয় প্রসঙ্গে
নাহিদ লেখেন, “বাৎসরিক আয়ের বিষয়ে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে, তা একটি ভুল ধারণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে।” তার ভাষ্যমতে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য হলফনামায় উল্লেখিত ১৬ লাখ টাকার আয় কোনো হঠাৎ প্রাপ্ত অর্থ নয়; বরং এর মধ্যে প্রায় ১১ লাখই উপদেষ্টা হিসেবে বৈধ ব্যাংক চ্যানেলের মাধ্যমে প্রাপ্ত বেতন-ভাতা, যা আয়করযোগ্য ও নথিভুক্ত। বাকি অর্থ এসেছে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কনসালট্যান্ট হিসেবে কাজের সম্মানী থেকে।
মোট সম্পদ বিষয়ে ব্যাখ্যা
নাহিদ ইসলামের দাবি, তার মোট সম্পদের পরিমাণ ৩২ লাখ টাকা, যা তার প্রায় ২৭ বছরের সঞ্চয়ের ফল। এর মধ্যে রয়েছে উপদেষ্টা পদের আয় থেকে সেভিংস, পারিবারিক অনুষ্ঠানের উপহার, স্বর্ণালংকার, ইলেকট্রনিক সামগ্রী এবং ফার্নিচার। এসব তথ্য আয়কর রিটার্ন ও হলফনামায় নির্ভরযোগ্যভাবে উপস্থাপিত হয়েছে।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নিয়ে বিতর্ক
তিনি বলেন, “ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা থাকা নিয়ে যেটা বলা হচ্ছে, তা সম্পদের প্রতিফলন নয়। উপদেষ্টা হিসেবে থাকা অবস্থায় যা অবশিষ্ট ছিল, সেটিই ছিল ওই পরিমাণ। পরে সরকারি আসবাবপত্র কেনার বরাদ্দের অর্থ জমা হওয়ায় ব্যালেন্স বাড়ে, যা হলফনামায় পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।” বর্তমানে তার দুটি অ্যাকাউন্ট—একটি সোনালী ব্যাংকে, আরেকটি নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য খোলা সিটি ব্যাংকে।
পেশাগত পরিচয় নিয়ে বিভ্রান্তি
নাহিদ ইসলাম হলফনামায় শিক্ষকতা নয়, বরং কনসালট্যান্ট পেশা উল্লেখ করেছেন বলে দাবি করেন। তিনি জানান, বর্তমানে তিনি একটি টেক ফার্মে স্ট্র্যাটেজিক ও নীতিগত সিদ্ধান্তে পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করছেন। প্রতিষ্ঠানটি কোনো সরকারি প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত নয় এবং তার উপস্থিতিতে কোনো সরকারি সুবিধা নেয়নি।
‘স্বচ্ছতা অপরাধে পরিণত হয়েছে’
নাহিদ তার পোস্টের শেষ অংশে অভিযোগ করেন, তার বিরুদ্ধে যেসব অপপ্রচার চলছে তা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য তৈরি। তিনি বলেন, “যত বেশি স্বচ্ছতা দেখানো হয়, তত বেশি কাঠগড়ায় দাঁড় করানো হয়।”
তিনি আরও লেখেন, “যেসব রাজনীতিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন সম্পদ দেখান, তাদের ক্ষেত্রে প্রশ্ন তোলা হয় না। কারণ, তারা ক্ষমতার সঙ্গে আপস করে চলেন।”
প্রাসঙ্গিক প্রেক্ষাপট
সম্প্রতি বিভিন্ন প্রার্থীর হলফনামা ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। তারেক রহমান ও শফিকুর রহমানের তুলনায় নাহিদের সম্পদ তুলনামূলক কম হওয়ায় এই স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা যেমন হয়েছে, তেমনি অপপ্রচারও ছড়িয়েছে বলে অভিযোগ তার।


