নির্বাচন পর্যবেক্ষণে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন

১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে বাংলাদেশে একটি উচ্চপর্যায়ের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন পাঠাবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (European Union – EU)। বুধবার (৭ জানুয়ারি) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস (Muhammad Yunus)-এর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এই ঘোষণা দেন ইউরোপীয় এক্সটার্নাল অ্যাকশন সার্ভিসের (EEAS) এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক পাওলা পাম্পালোনি (Paola Pampaloni)।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউর সম্পর্ক সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের জায়গায় রয়েছে। এ সম্পর্কের ধারাবাহিকতায় আসন্ন নির্বাচনকে গুরুত্ব দিয়ে আমরা একটি উচ্চপর্যায়ের নির্বাচন পর্যবেক্ষক দল পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।” তিনি আরও জানান, এই মিশনের প্রধান এ সপ্তাহের শেষ দিকে বাংলাদেশে আসবেন এবং রাজনৈতিক নেতা ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করবেন।

সাক্ষাতে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোট বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক দলগুলো জুলাই সনদকে সমর্থন করেছে এবং আমার বিশ্বাস, তারা ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রচার চালাবে। আমি মনে করি না কোনো দল ‘না’ ভোট চাইবে।”

প্রধান উপদেষ্টা ইউরোপীয় ইউনিয়নের দীর্ঘদিনের সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “পিসিএ চুক্তি (Partnership and Cooperation Agreement) বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এটি বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ককে আরও দৃঢ় করবে।”

পাওলা পাম্পালোনি অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বের প্রশংসা করে বলেন, “তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে যে সংস্কারগুলো বাস্তবায়ন করেছেন এবং যেভাবে শান্তি-স্থিতিশীলতা রক্ষা করেছেন, তা ইইউ গুরুত্বসহকারে লক্ষ্য করছে ও প্রশংসা করছে।”

প্রধান উপদেষ্টা আবারও আশ্বস্ত করেন যে, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ভোট হবে “অবাধ, সুষ্ঠু, অংশগ্রহণমূলক ও শান্তিপূর্ণ”। তিনি বলেন, “গত ১৬ বছরে বাংলাদেশে কোনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি। তবে এবার জনগণের জন্য এটি হবে একটি উৎসবমুখর গণতান্ত্রিক উদ্‌যাপন।”

পাওলা পাম্পালোনি বলেন, “বাংলাদেশে একটি শান্তিপূর্ণ নির্বাচন সফলভাবে সম্পন্ন হলে বাংলাদেশ-ইইউ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। এটি দুই পক্ষের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।”

বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ দূত লুৎফে সিদ্দিকী, এসডিজি সমন্বয়ক ও সিনিয়র সচিব লামিয়া মোর্শেদ এবং বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার (Michael Miller)।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *