আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে রাজধানীসহ দেশের ৪৮৯টি উপজেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু, শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক পরিপত্রে।
মঙ্গলবার জারি করা ওই পরিপত্রে জানানো হয়, দেশের মোট ৪৯৫টি উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া, দাকোপ, মনপুরা ও রাঙ্গাবালি উপজেলাগুলো বিজিবি মোতায়েনের আওতার বাইরে থাকবে।
এর আগে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিজিবি জানায়, নির্বাচনকালীন শান্তি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সারাদেশে ইতোমধ্যেই ১ হাজার ১৫১ প্লাটুন সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। তারা ‘ইন এইড টু দ্য সিভিল পাওয়ার’ বিধানের আওতায় মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিপত্র অনুযায়ী, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ভোটগ্রহণের চার দিন আগে অর্থাৎ ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে বিজিবি মোতায়েন শুরু হবে এবং তা চলবে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
নির্বাচনকেন্দ্রিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে থাকবে পুলিশ, বিজিবি, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী (ভিডিপি), কোস্ট গার্ড এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। সেনাবাহিনীর সদস্যরা স্থানীয় বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা করবেন ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’ বিধান অনুসারে।
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এবারের নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন প্রায় ১২ কোটি ৭৫ লাখ ভোটার। ৩০০টি সংসদীয় আসনে মোট ৪৩ হাজার ভোটকেন্দ্রে প্রায় ২ লাখ ৬০ হাজার ভোটকক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে মাঠে থাকবে বিভিন্ন বাহিনীর প্রায় ৮ লক্ষাধিক সদস্য। এর মধ্যে আনসার ও ভিডিপির ৫ লাখ ৫০ হাজার সদস্য সরাসরি ভোটকেন্দ্রে দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া প্রায় ১ লাখ পুলিশ সদস্য, ১ লাখ সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য এবং ৩৫ হাজার বিজিবি সদস্য সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন।
নির্বাচনকালীন শান্তি রক্ষায় অতিরিক্ত সহযোগিতা করবে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) এবং কোস্ট গার্ড।


