আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে মাঠ প্রশাসনে লটারির মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও পুলিশ সুপারদের (এসপি) ‘দলীয়’ আখ্যা দিয়ে অপসারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (Bangladesh Jamaat-e-Islami)।
বুধবার (৬ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে এক বৈঠকে এ দাবি তোলে জামায়াত প্রতিনিধি দল। দলটির নেতারা বলেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে এসপি ও ডিসিদের পুনর্বিন্যাস জরুরি।
প্রসঙ্গত, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এরই মধ্যে মনোনয়ন যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
জামায়াতের দাবি, তারা আগেই নির্বাচন কমিশনকে প্রস্তাব দিয়েছিল মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের লটারির মাধ্যমে বদলি করার। গত ১১ নভেম্বর এক সংলাপে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই প্রস্তাব দেন। তার যুক্তি ছিল—লটারির মাধ্যমে বদলি হলে পক্ষপাত বা দলীয় প্রভাবের অভিযোগ থাকবে না।
নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার আগেই কিছু জেলায় লটারির মাধ্যমে এসপি নিয়োগ দেওয়া হলেও ডিসিদের ক্ষেত্রে তা বাস্তবায়ন হয়নি। অথচ রিটার্নিং কর্মকর্তার গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন জেলা প্রশাসকরা, আর নির্বাচনকালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকে এসপিদের।
সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে জামায়াতের নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের সাংবাদিকদের বলেন, মনোনয়ন যাচাই-বাছাইয়ে বৈষম্য হয়েছে এবং এর পেছনে ‘দলীয়’ ডিসিদের ভূমিকা রয়েছে। তার ভাষায়, “একই ধরনের ঘটনায় ভিন্ন সিদ্ধান্ত এসেছে। কারণ, সেখানে দলীয় ডিসি দায়িত্বে ছিলেন।”
তিনি আরও বলেন, “যেসব ডিসি ও এসপি দলীয় পরিচয়ে নিয়োগ পেয়েছেন, তাদের সরিয়ে নিরপেক্ষদের দায়িত্ব দিতে হবে।”
নির্বাচনে অংশ নেওয়া প্রার্থীদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রেও বৈষম্যের অভিযোগ তোলেন জামায়াত নেতারা। তাহের বলেন, “কেউ অতিরিক্ত নিরাপত্তা পাচ্ছেন, কেউ পাচ্ছেন না।”
একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আরও দৃঢ় অবস্থান গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি। তাহের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, “জুলাইয়ে গণ-অ’ভ্যু’\থা’নের পর এই প্রথম জাতীয় নির্বাচন। যদি এটি ‘অ্যা’\রে’\ঞ্জ’\ড নির্বাচন’ হয়, তবে দেশ অস্তিত্ব সংকটে পড়তে পারে।”


