আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) প্রার্থী আব্দুল হান্নান মাসউদ সমর্থকদের কাছে ফেসবুকের মাধ্যমে সরাসরি আর্থিক সহায়তা চেয়েছেন। বুধবার রাতে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিস্তারিত পোস্টে তিনি এ আহ্বান জানান।
আব্দুল হান্নান মাসউদ বর্তমানে এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করছেন। তার এই আহ্বান রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, তিনি হয়তো ঢাকা-৯ আসনের প্রার্থী ডা. তাসনিম জারা এবং বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ-মুলাদী) আসনের এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদের পথ অনুসরণ করছেন—যারা এর আগেই নির্বাচনী ব্যয়ের জন্য জনসাধারণের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন।
নিজের পোস্টে হান্নান মাসউদ লেখেন, “আমি এমন একটি রাজনীতিতে বিশ্বাস করি যেখানে ক্ষমতার চেয়ে মানুষ বড়, স্বার্থের চেয়ে সততা বড় এবং প্রভাবের চেয়ে ইনসাফ বড়। উন্নয়ন মানে শুধু রাস্তা, ভবন বা অবকাঠামো নয়— উন্নয়ন মানে এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা, যেখানে ন্যায়বিচার থাকবে, বৈষম্য থাকবে না এবং জনপ্রতিনিধি সর্বদা জনগণের কাছে জবাবদিহি থাকবে।”
তিনি আরও লেখেন, “আমি শুরু থেকেই একটি বিষয় পরিষ্কার রাখতে চেয়েছি— আমার রাজনীতি কোনো ব্যক্তি, ব্যবসায়ী বা প্রভাবশালী গোষ্ঠীর অর্থে পরিচালিত হবে না। কারণ বড় অঙ্কের অর্থ বড় শর্ত নিয়ে আসে, যা ভবিষ্যতে সিদ্ধান্ত গ্রহণের স্বাধীনতা হরণ করে। আমি চাই না হাতিয়ার মানুষের অধিকার কোনো গোষ্ঠীর স্বার্থে বিকিয়ে যাক।”
সমর্থকদের উদ্দেশে হান্নান বলেন, “এই কারণেই আমি আপনাদের কাছ থেকে ছোট ছোট অবদানের মাধ্যমে সহায়তা চাইছি। এটি কেবল প্রচারণার খরচ নয়, এটি একটি নৈতিক অবস্থান—যার মাধ্যমে হাতিয়ার মানুষ নিজেই তার প্রতিনিধি গড়ে তুলছে।”
নিজেকে কাজের মাধ্যমে প্রমাণ করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি লেখেন, “আপনাদের আস্থা ও বিশ্বাসের জবাব আমি দেব কাজ দিয়ে, কথার ফুলঝুরি দিয়ে নয়। আমি চাই হাতিয়ায় ইনসাফভিত্তিক, স্বচ্ছ ও বৈষম্যহীন উন্নয়ন হোক—এবং তা সম্ভব কেবল আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণে।”
তার এই আর্থিক সহায়তার আবেদন শুধু প্রচারণা নয়, বরং ‘নৈতিক বার্তা’ হিসেবে দেখছেন অনেকেই। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এটি প্রমাণ করছে—দেশের রাজনীতিতে বিকল্প ধারা ও নতুন নেতৃত্ব গড়ে ওঠার চেষ্টার পেছনে রয়েছে এক নতুন প্রজন্মের চিন্তা।


