স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ (Salahuddin Ahmed) বলেছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের দায়মুক্তি বা ইনডেমনিটি দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে জাতীয়ভাবে সম্মত থাকা প্রয়োজন।
বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্র (Bangladesh-China Friendship Conference Center)-এ আয়োজিত ‘জাতীয় মানবাধিকার অধ্যাদেশ, নতুন সংসদের কাছে প্রত্যাশা’ শীর্ষক সংলাপে অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অভ্যুত্থানে যারা অংশ নিয়েছেন, তাদের হাতে যদি কিছু মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটে থাকে—এখন প্রশ্ন উঠছে, ভুক্তভোগীরা কি মামলা করার অধিকার রাখেন না? কেন ইনডেমনিটি দেওয়া হলো?”
তিনি বলেন, “রাষ্ট্রীয় বাহিনী আমাদের ওপর হামলা চালিয়েছে, তাদের গু’\লিতে ১৪০০ জনের বেশি মানুষ শ’\হীদ হয়েছেন। এখন সেই পরিস্থিতিতে যদি আমাদের পক্ষ থেকেও কিছু কর্মকাণ্ড ঘটে থাকে, সবকিছুকেই মানবাধিকার লঙ্ঘন হিসেবে দেখা যাবে না।”
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সরকারের অবস্থান হলো—জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দেওয়া হয়েছে এবং এ বিষয়ে জাতীয়ভাবে ঐকমত্য বজায় রাখা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, “লাখ লাখ মামলাবাজির মধ্য দিয়ে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়।”
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, ফ্যাসিবাদের পতনের পর দেশে নৈরাজ্য বা প্রতিহিংসামূলক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা আগে থেকেই ছিল। সে কারণেই সরকার পুনর্মিলন বা রিকনসিলিয়েশনের ধারণা সামনে এনেছে।
তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকার উদাহরণ মাথায় রেখে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। সেখানে ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন করা হয়েছিল। বাংলাদেশেও এ ধরনের একটি কাঠামো গঠনের কথা ভাবা হচ্ছে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “আমাদের এখানে হয়তো একটি ‘হাফ ট্রুথ কমিশন’ হতে পারে। তবে আমাদের ন্যাশনাল রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন করতেই হবে—এটা আমাদের অঙ্গীকার।”
তার ভাষ্য অনুযায়ী, এই কমিশনের মাধ্যমে জাতির ঐক্য ধরে রাখা এবং দেশে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করাই সরকারের লক্ষ্য।


