জুলাই আন্দোলন ঘিরে রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বের ভিন্ন ভিন্ন ন্যারেটিভ তৈরির প্রবণতার সমালোচনা করে ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর ভাই মীর স্নিগ্ধ। সেখানে তিনি বলেছেন, একই ঘটনা হলেও রাজনৈতিক অবস্থানের কারণে নায়ক-খলনায়কের সংজ্ঞা বদলে যাচ্ছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া স্ট্যাটাসে মীর মুগ্ধ জামায়াত ও এনসিপির সাম্প্রতিক জোট প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই জোট ঘোষণার পর দেশের বিভিন্ন স্থানে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। এনসিপির একটি তৃণমূল কমিটির বৈঠকে জামায়াতকে স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি বলা যাবে কি না এমন প্রশ্ন উঠলে এক নেতা জামায়াতের ১৯৭১ সালের অবস্থানকে ‘তৎকালীন পার্সপেক্টিভ থেকে সঠিক’ বলে ব্যাখ্যা করার চেষ্টা করেন।
ওই নেতা নাকি বলেন, ১৯৭১ সালে জামায়াত দেশ ভেঙে যাওয়ার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল এবং ভারতীয় আগ্রাসনের বিরোধিতা করেছিল। এখনো তারা একই অবস্থানে রয়েছে দেশ রক্ষা ও ভারতবিরোধী শক্তি হিসেবে। এ বক্তব্যের সমালোচনা করে মীর মুগ্ধ লেখেন, মানুষ আসলে ন্যায়-অন্যায় বিচার করে না; বরং রাজনৈতিক প্রভুদের শেখানো ভাষ্য দিয়েই ভালো-মন্দের সংজ্ঞা নির্ধারণ করে।
মীর স্নিগ্ধ তার পোস্টে লেখেন, একই ঘটনা কারো কাছে ন্যায়, আবার কারো কাছে অন্যায় হয়ে ওঠে। একই ইতিহাস ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থানে দাঁড়িয়ে ভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করা হয়। নিজের পক্ষে গেলে ঘটনাটি ন্যায্য হয়ে যায়, বিপক্ষে গেলে সেটিই অন্যায় হিসেবে চিহ্নিত হয়।
স্ট্যাটাসে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের রাজনীতিতে ইতিহাস ও আন্দোলনের মালিকানা দাবি করার প্রবণতা নতুন নয়। স্বাধীনতার ঘোষণার প্রশ্নে যেমন কখনো শেখ মুজিবুর রহমান, কখনো জিয়াউর রহমানকে সামনে আনা হয়, তেমনি জুলাই অভ্যুত্থান নিয়েও তৈরি হয়েছে একাধিক ন্যারেটিভ।
মীর মুগ্ধের ভাষায়, একই জুলাই অভ্যুত্থান কখনো নাহিদ নায়ক, কখনো তারেক রহমান, কখনো সাদিক কায়েম, কখনো শফিকুর রহমান। এই দেশে কেউ একসঙ্গে নায়ক হতে চায় না; সবাই আলাদা আলাদা ভাবে ইতিহাসের নায়ক হতে চায়।


