পটুয়াখালী-৩ (দশমিনা-গলাচিপা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত নেতা হাসান মামুন (Hasan Mamun) নির্বাচন ঘিরে শুধু মাঠেই নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরব। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোড়ন তোলেন।
সেখানে তিনি লেখেন, “বহিষ্কার পাল্টা বহিষ্কারের এসব নাটক বাদ দিয়ে সরাসরি বিএনপিতে যোগ দেওয়াই শ্রেয়। যদি আইনি জটিলতা না থাকে, নির্বাচন কমিশন ধানের শীষে প্রতীক দিলেও কোনো আপত্তি নেই। জাতি তামাশা থেকে মুক্তি চায়।”
যদিও পোস্টে তিনি সরাসরি কারও নাম উল্লেখ করেননি, তবে নেটিজেনরা ধরেই নিয়েছেন—এটি বিএনপির সাথে জোটে যাওয়া নিয়ে গণঅধিকার পরিষদের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের প্রেক্ষিতে দেওয়া হয়েছে।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে পটুয়াখালী-৩ আসনটি গণঅধিকার পরিষদ (Gono Odhikar Parishad)–এর সভাপতি নুরুল হক নুর (Nurul Haque Nur)–কে ছেড়ে দেওয়া হয়। তবে একই আসনে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেন, যার জেরে ৩০ ডিসেম্বর তাঁকে বিএনপির সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এদিকে, পরিস্থিতি আরও জটিল করে তোলে একটি ভুয়া বহিষ্কারপত্র। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে একটি নোটিশ, যাতে দাবি করা হয় গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি নুরুল হক নুরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওই ভুয়া নোটিশে দলের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হাসান আল মামুনের স্বাক্ষর রয়েছে এবং উল্লেখ করা হয় যে, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে নুরকে সাময়িক বহিষ্কার ও শোকজ করা হয়েছে।
তবে গণঅধিকার পরিষদের উচ্চতর পরিষদের সদস্য ও গণমাধ্যম সমন্বয়ক আবু হানিফ (Abu Hanif) স্পষ্টভাবে জানান, “নোটিশটি সম্পূর্ণ ভুয়া। এমন কোনো সিদ্ধান্ত বা নোটিশ দল থেকে ইস্যু করা হয়নি।”
তিনি আরও বলেন, “এটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি এবং প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এই অবস্থায় হাসান মামুনের পোস্ট এবং নুরুল হক নুরকে ঘিরে গুজব রাজনৈতিক মহলে নতুন উত্তেজনা তৈরি করেছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের অনেকেই এসব ঘটনায় বিভ্রান্ত। আসন সমঝোতার বাস্তবতা, ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা এবং দলীয় আনুগত্যের দ্বন্দ্ব—এই তিনের টানাপড়েনই এখন পটুয়াখালী-৩ আসনে নির্বাচনী আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।


