ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আবারও বিতর্কের মুখে পড়েছে জামায়াতে ইসলামী (Jamaat-e-Islami)। এক বাক্সে নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি দিলেও বাস্তবে ১১ দলীয় পৃথক জোট গঠনের ঘটনায় তাদের ‘মুনাফেকি ও ‘দ্বিচারিতা’ নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন দেশের শীর্ষ ওলামায়ে কেরাম। শনিবার (১০ জানুয়ারি) সিলেট রেজিস্ট্রারি মাঠে আয়োজিত উলামা মাশায়েখ সম্মেলনে এই বক্তব্য তুলে ধরেন কওমি ঘরানার বর্ষীয়ান আলেমরা।
সিলেটের ঐতিহ্যবাহী কওমি মাদরাসা ঐতিহ্য সংরক্ষণ পরিষদ-এর আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন শায়খ আলিম উদ্দিন দুর্লভপুরী। প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন শায়খ জিয়া উদ্দিন, যিনি সিলেট আযাদ দ্বীনী এদারায়ে তালীমের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন মাওলানা শোয়াইব আহমেদ, শায়খ মাশুক উদ্দিন, শায়খ মুহিউল ইসলাম বুরহান, মাওলানা জয়নুল আবেদীন, মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী এবং মাওলানা সাইফুদ্দিন ইউছুফ ফাহিম।
বক্তব্যে ওলামায়ে কেরাম অভিযোগ করেন, জামায়াতে ইসলামীর ইতিহাস বহুবার ‘ইসলামের নাম ব্যবহার করে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার। তারা ইসলামপন্থীদের সাথে বারবার ‘ধোঁকা’ দিয়ে এসেছে। অতীতে যেমন ইসলামী মূল্যবোধের কথা বলে রাজনীতিতে প্রবেশ করে পরবর্তীতে ইসলামপন্থীদের আস্থা ভেঙেছে, তেমনি এবারও নির্বাচনের সময় ‘রাজনৈতিক সমঝোতার’ মোড়কে বিভ্রান্তি তৈরি করছে দলটি।
শীর্ষ আলেমরা সরাসরি ঘোষণা করেন, “জামায়াত কোনো প্রকৃত ইসলামী দল নয়। তারা ইসলামের ব্যানার ব্যবহার করে নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ পূরণে তৎপর।”
সম্মেলন থেকে ইসলামপন্থী দল ও ব্যক্তিত্বদের উদ্দেশ্যে ওলামায়ে কেরাম আহ্বান জানান, “এখন সময় প্রকৃত হকপন্থী শক্তির ছায়াতলে ঐক্যবদ্ধ হবার। জামায়াতের ‘ধোঁকাবাজি’ থেকে সতর্ক থেকে, দ্বীনদার নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠায় এগিয়ে আসা উচিত।”
তারা বলেন, সুসংগঠিত ইসলামী রাজনীতির প্রয়োজনীয়তা কখনও এত প্রবল ছিল না যতটা এখন। বিভ্রান্তিকর রাজনীতি থেকে দূরে থেকে ইসলামী ভাবধারার প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব করাই এখন সময়ের দাবি।


