দীর্ঘ চার বছরের ব্যবধান ভেঙে অবশেষে খুলনা মহানগর বিএনপির বিভক্ত দুই শিবির এক টেবিলে বসেছে। নজরুল ইসলাম মঞ্জু (Nazrul Islam Monju) অনুসারীরা গেল শুক্রবার মহানগর কার্যালয়ে যান এবং বর্তমান কমিটির সঙ্গে বৈঠকে মিলিত হন। সেখানে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে খুলনা-২ (Khulna-2) আসনে দলীয় প্রার্থী মঞ্জুর জন্য ১০১ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠিত হয়।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন সাবেক সিটি মেয়র ও মহানগর বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাবেক উপদেষ্টা সেকেন্দার জাফরুল্লাহ খান সাচ্চু, যুগ্ম সম্পাদক মাহবুব কায়সার, সদর থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান অপু এবং সোনাডাঙ্গা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান মুরাদ।
বিএনপির মহানগর কার্যালয়ে আয়োজিত বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন বর্তমান কমিটির সভাপতি শফিকুল আলম মনা (Shafiqul Alam Mona)। প্রধান অতিথি ছিলেন সাবেক মেয়র মনিরুজ্জামান মনি। বৈঠকে মনাকে আহ্বায়ক এবং সাচ্চু ও তুহিনকে সমন্বয়ক করে ১০১ সদস্যের নির্বাচন পরিচালনা কমিটি গঠন করা হয়। সিদ্ধান্ত হয়, ওয়ার্ড ও থানা পর্যায়েও উভয় পক্ষের নেতাদের অংশগ্রহণে নির্বাচন কমিটি গঠিত হবে।
এই দৃশ্য দেখেই তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ফিরে এসেছে স্বস্তি। দীর্ঘদিন ধরে চলা দলীয় কোন্দল মেটাতে এই সংলাপ ও সমঝোতা বড় বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।
প্রসঙ্গত, খুলনা মহানগর বিএনপিতে দ্বন্দ্ব তীব্র আকার নেয় ২০২১ সালের ৯ ডিসেম্বর, যখন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন কমিটি কেন্দ্রীয়ভাবে বিলুপ্ত করা হয়। এরপর শফিকুল আলম মনাকে আহ্বায়ক এবং শফিকুল আলম তুহিনকে সদস্য সচিব করে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়। এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সংবাদ সম্মেলন করেন মঞ্জু, যার জেরে তার বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক পদ স্থগিত হয়। তখন থেকেই দুই পক্ষ আলাদা পথ বেছে নেয়, পৃথকভাবে পালন করে কেন্দ্রীয় কর্মসূচি।
পরবর্তীতে খুলনা-২ আসনে মনোনয়ন নিয়ে দ্বন্দ্ব চরমে ওঠে। মনোনয়নের জন্য দাবি জানান তিনজন—মঞ্জু, মনা ও তুহিন। শেষ পর্যন্ত বিএনপি মনোনয়ন দেয় নজরুল ইসলাম মঞ্জুকে, যেটি বিদ্রোহে উসকে দেয় বর্তমান কমিটির নেতাদের।
এই বিরোধ নিরসনে মধ্যস্থতায় নামেন বিএনপির কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল (Rakibul Islam Bakul)। তার নেতৃত্বে হয় একাধিক বৈঠক, যা অবশেষে ঐক্যের পথ দেখায়।
শুক্রবার মাগরিবের নামাজের পর কেডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠক শেষ হয় রাত ৯টার দিকে।
বৈঠক শেষে মনিরুজ্জামান মনি বলেন, ‘২০২১ সালের পর এই প্রথম সেখানে গিয়েছি। সবাই বিষয়টিকে ইতিবাচকভাবে নিয়েছেন। এখন থেকে নিয়মিত একসঙ্গে সভা হবে।’
বিএনপির মহানগর সভাপতি শফিকুল আলম মনা বলেন, ‘নেতাকর্মীদের মাঝে মনোমালিন্য হয়, আবার দূরও হয়। বড় দলে এমনটা স্বাভাবিক। নির্বাচনে দলের প্রার্থীকে বিজয়ী করতে আমরা একসঙ্গে কাজ করব।’
দলীয় প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু জানান, ভুলত্রুটি ভুলে সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে চায়। সব পর্যায়ের নেতাকর্মীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
এই সংহতি নতুন বার্তা বহন করছে খুলনার রাজনীতিতে, যেখানে বিএনপি আবারও একতাবদ্ধ হওয়ার পথে।


