বাগেরহাটে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) (National Citizen Party) সাংগঠনিক কাঠামোয় বড় ধরনের ভাঙনের ইঙ্গিত মিলেছে। দলটির বাগেরহাট সদর উপজেলার ১২ জন নেতা একযোগে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। রবিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে বাগেরহাট প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দল ছাড়ার কথা জানান।
পদত্যাগকারীদের মধ্যে রয়েছেন এনসিপির বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী মো. আলী হোসেন এবং যুগ্ম সমন্বয়কারী কাজী মাহফুজুনর রহমান। এছাড়া পদত্যাগকারী অন্য নেতারা হলেন সদর উপজেলার সদস্য আশিকুর রহমান (সুমন), শেখ রাসেল, শেখ মিজানুর রহমান, মো. হাসান শেখ, মো. শহিদুল ইসলাম, শেখ জাহিদুল ইসলাম, শেখ নাবিল হোসেন, মো. জনি, মুনিয়া আক্তার জেনি এবং মো. রাতুল আহসান। সব মিলিয়ে মোট ১২ জন নেতা একযোগে দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এনসিপির বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী ও অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মো. আলী হোসেন বলেন, ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের যে অঙ্গীকার এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির যাত্রা শুরু হয়েছিল, বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা ও সমীকরণের সঙ্গে তার স্পষ্ট অসামঞ্জস্যতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। যে আদর্শ ও স্বপ্নকে সামনে রেখে আমরা রাজনীতিতে পথচলা শুরু করেছিলাম, সময়ের ব্যবধানে সেখান থেকে সরে আসার বিষয়টি এখন আর অস্বীকার করার সুযোগ নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমার ব্যক্তিগত রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে এনসিপির বর্তমান রাজনৈতিক অবস্থানের স্পষ্ট সংঘর্ষ রয়েছে। পাশাপাশি কিছু ব্যক্তিগত কারণও রয়েছে। সবকিছু বিবেচনায় নিয়েই আমি এনসিপির বাগেরহাট সদর উপজেলা প্রধান সমন্বয়কারী পদসহ দল থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত অন্য পদত্যাগী নেতারাও মো. আলী হোসেনের বক্তব্যের প্রতি একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং একই সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথা জানান। একযোগে এতগুলো নেতার পদত্যাগ স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


