বিদ্রোহীদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারে উদ্যোগ বিএনপির, একে একে সরে দাঁড়াচ্ছেন বিদ্রোহী প্রার্থীরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে শরিকদের জন্য আসন ছেড়ে দিলেও, সেইসব আসনে বিদ্রোহী প্রার্থীদের কারণে চাপে পড়েছে বিএনপি (BNP)। দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এসব বিদ্রোহীদের দলে ফেরাতে ও প্রার্থিতা প্রত্যাহারে রাজি করাতে সরাসরি হস্তক্ষেপ শুরু করেছে। গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে একে একে ডাকা হচ্ছে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া বিদ্রোহী নেতাদের। ইতোমধ্যে অনেকে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।

প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেছেন যারা
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী সৈয়দ একে একরামুজ্জামান তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন এক ভিডিও বার্তায়।
ঝিনাইদহ-৪ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী মুর্শিদা খাতুন (মুর্শিদা জামান পপি) জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিতভাবে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। তিনি বিএনপির উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং সাবেক সংসদ সদস্য শহিদুজ্জামান বেল্টুর স্ত্রী।
মাদারীপুর-৩ আসনের সাবেক যুবদল নেতা আসাদুজ্জামান পলাশ এক ফেসবুক স্ট্যাটাসে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন।
সুনামগঞ্জ-৫ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া মিজানুর রহমান চৌধুরী লিখিত বক্তব্যে জানান, তারেক রহমানের অনুরোধে তিনি সরে দাঁড়িয়েছেন।
নোয়াখালী-৫ আসনে প্রয়াত ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের স্ত্রী হাসনা জসীম উদ্‌দীন মওদুদ** দলীয় মনোনয়ন না পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছিলেন, তবে এখন প্রার্থিতা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, দলের প্রতি সম্মান জানিয়ে আগামী ২০ জানুয়ারির মধ্যে তিনি সশরীরে গিয়ে মনোনয়ন প্রত্যাহার করবেন।

বিএনপির ভেতরে আলোচনা জোরালো হয়েছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৬ আসন ঘিরেও। এই আসনটি শরিক দল গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি–কে ছেড়ে দিলেও, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য এমএ খালেক সেখানে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন। ফলে, ৩০ ডিসেম্বর দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাঁকে বহিষ্কার করে বিএনপি। তবে, পরে তিনি গুলশানে বিএনপির রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এই সাক্ষাতের পর থেকে ধারণা করা হচ্ছে, এমএ খালেকও শিগগির প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারেন।

নারায়ণগঞ্জ-২ আসনেও এমন একটি দ্বন্দ্বপূর্ণ অবস্থা তৈরি হয়েছে। বিএনপির প্রার্থী নজরুল ইসলাম আজাদের বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন দলের সাবেক সংসদ সদস্য আতাউর রহমান খান আঙ্গুর। তিনিও গুলশান কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে একটি দলীয় সূত্র।

দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে প্রার্থী হওয়া এসব নেতাদের নিয়ে উদ্বিগ্ন বিএনপি। কারণ শরিকদের সঙ্গে করা আসন ভাগাভাগির সমঝোতা এই বিদ্রোহের কারণে প্রশ্নের মুখে পড়ছে। সারা দেশে বিদ্রোহীদের তালিকা প্রস্তুত করে একে একে ডেকে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারে উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দেওয়া একাধিক প্রার্থী তাদের বক্তব্যে তারেক রহমানের প্রতি আনুগত্য ও দলীয় শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন।

দলীয় নেতাদের মতে, এই উদ্যোগ সফল হলে শরিকদের আসন ছাড়ার সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এবং মাঠ পর্যায়ে বিভ্রান্তি কমবে। তবে এখনও কিছু প্রার্থী অনড় অবস্থানে রয়েছেন, ফলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত জোটের আসন সমন্বয় বাস্তবে কতটা সফল হয়, তা নিয়ে সংশয় রয়ে গেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *