ময়মনসিংহ (Mymensingh) জেলার মুক্তাগাছায় রাজনীতিতে ঘটছে বড় ধরনের পালাবদল। জাতীয় পার্টির উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ের আহ্বায়ক, সভাপতি, সাধারণ সম্পাদকসহ পদধারী অন্তত অর্ধশতাধিক নেতা এবং সহস্রাধিক কর্মী একযোগে বিএনপিতে (BNP) যোগ দিয়েছেন।
সোমবার নন্দীবাড়ি এলাকায় উপজেলা বিএনপি কার্যালয়ে ফুল দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে বিএনপিতে যোগ দেন তারা। জাতীয় পার্টির উপজেলা সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ও পৌর কাউন্সিলর আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে এ যোগদান অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
এই বিশাল যোগদান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথি ছিলেন ময়মনসিংহ-৫ (মুক্তাগাছা) আসনের ধানের শীষ প্রতীকধারী প্রার্থী ও দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবলু (Jakir Hossain Bablu)।
বিএনপিতে যোগদানকারী জাতীয় পার্টির নেতাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—বড়গ্রাম ইউনিয়ন জাপার আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম, উপজেলা জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ও কৃষক পার্টির সভাপতি শাজাহান, শহর জাপার আহ্বায়ক বাবুল হোসেন, জেলা জাপার যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল হোসেন, সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মাহবুবুল আলম ফকির, খেরুয়াজানী ইউপির সভাপতি আশরাফুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সভাপতি মুকলেছুর রহমান, ঘোগা ইউপির সাধারণ সম্পাদক মাসুদ, দাওগাঁও ইউপির আবুল কালাম, পৌর জাপার যুগ্ম আহ্বায়ক জসীম উদ্দিন ও সাবেক এমপি সালাউদ্দিন মুক্তির ঘনিষ্ঠ সহযোগী মিজানুর রহমান।
পরে বক্তব্যে আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমরা বাধ্য হয়েই এতদিন জাতীয় পার্টিতে ছিলাম। এখন বুঝতে পারছি শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শই দেশের জন্য উপযোগী। তাই আমরা স্বেচ্ছায় বিএনপিতে এসেছি এবং জাকির হোসেন বাবলুর নেতৃত্বে মুক্তাগাছার মানুষের জন্য কাজ করব।”
গণমাধ্যমের প্রশ্নে জাকির হোসেন বাবলু বলেন, “বিএনপি হলো গণমানুষের দল। কেউ যদি সত্যিকার অর্থে নিজেদের ভুল বুঝে এসে আমাদের সঙ্গে কাজ করতে চায়, আমরা তাকে স্বাগত জানাব। তবে আমাদের দলে এসে প্রমাণ করতে হবে তারা সত্যিই পরিবর্তিত হয়েছে। তাদের কাজ ও কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করা হবে, মূল্যায়ন হবে।”
এ উপলক্ষে আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন পৌর বিএনপির সভাপতি শহীদুল ইসলাম শহীদ এবং সঞ্চালনায় ছিলেন উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মতিউর রহমান খোকন। এতে আরও বক্তব্য রাখেন—উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান খান রতন, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুজ্জামান লেবু, যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান মঞ্জু, একেএম জাহাঙ্গীর আলম, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুর্শিদুজ্জামান খান সাইফুল, সাংগঠনিক সম্পাদক হাবিবুর রহমান হবি, দক্ষিণ জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি কাজী রিপনসহ অন্য নেতৃবৃন্দ।


