জামায়াত জোটে আসন ভাগাভাগি নিয়ে টানাপড়েন, জোট ছাড়ার হুমকি ইসলামী আন্দোলন ও এবি পার্টির

কথিত ইসলামপন্থিদের ভোট একত্রিত করে নির্বাচনে প্রভাব বিস্তারের লক্ষ্যে গঠিত জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট এখনো আসন ভাগাভাগির চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি। জোটের মূলনীতি ও প্রত্যাশিত আসনে ছাড় না পেলে জোট ছাড়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ (Islami Andolon Bangladesh) ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (AB Party)।

এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু বলেছেন, “আমরা স্পষ্ট করতেছি না, তবে যদি মূলনীতি অনুযায়ী আলোচনা না হয় এবং সমঝোতায় পৌঁছানো না যায়, তাহলে আমরা জোটে নাও থাকতে পারি।” তিনি অভিযোগ করেন, “এখন পর্যন্ত ১১ দলের কোনো অফিশিয়াল মিটিং হয়নি। আমাদের সঙ্গে জামায়াত তিনটি আসনের কথা বলেছে, কিন্তু আমরা এতে সন্তুষ্ট নই।”

মঞ্জুর দাবি অনুযায়ী, এনসিপি ও এবি পার্টি যৌথভাবে ৫০টি আসনের দাবি জানায়—এরমধ্যে এনসিপি ৩৫টি ও এবি পার্টি ১৫টি আসন চায়। তবে জামায়াত এনসিপির সঙ্গে আলাদা, এবি পার্টির সঙ্গে আলাদা আলোচনা করছে, যা দলের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি করেছে।

অন্যদিকে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহ ইফতেখার তারিক বলেন, “আমরা চাই সমাধান হোক। যদি তা না হয়, তাহলে বিকল্প ব্যবস্থা আমাদের নেওয়া আছে।” তিনি স্পষ্ট করে জানান, কেউ যদি সব কিছু নিজের মতো করতে চায়, তাহলে সেখানে যৌথ কাজ হয় না—এটাই সমস্যা।

জোট গঠনের পর থেকেই জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে আসন ভাগাভাগি নিয়ে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে আসে। এরইমধ্যে জামায়াতে ইসলামী ২৭৬টি এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ২৬৮টি আসনে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছে। কিন্তু ইসলামী আন্দোলনের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, মাত্র ৩৫টি আসনে নির্বাচন করতে দেওয়ার প্রস্তাবে দলটির ভেতরে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।

জোটের আরও কয়েকটি দলও আসন বণ্টনে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে। যেমন, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস (Bangladesh Khelafat Majlish) ৫০টি আসন চাইলেও ১৩টি আসনে রাজি করানো হয়েছে বলে জানা গেছে। খেলাফত মজলিস পেয়েছে মাত্র ৫টি আসন, নেজামে ইসলাম ও খেলাফত আন্দোলন পেয়েছে দুটি করে আসন। বিডিপিজাগপা পেয়েছে একটি করে।

এনসিপি (NCP) দাবি করেছিল ৫০টির বেশি আসন, তবে প্রাথমিকভাবে ৩০টি আসনে সম্মতি দেওয়া হয়। তবে এই সংখ্যাও এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

জোটের সংকট নিরসনে আশাবাদী জামায়াত। দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, “সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। দুয়েক দিনের মধ্যে সমাধান হবে। আমরা সংবাদ সম্মেলন করে জানাব।” একইভাবে খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক বলেন, “আশা করছি, আজ রাত বা আগামীকাল দুপুরের মধ্যেই সব ঠিক হয়ে যাবে।”

তবে নেতাদের কথায় স্পষ্ট—সমঝোতার মূল ভিত্তি এখনো অনির্ধারিত। নাম, নীতি, যৌথ লক্ষ্য—সব কিছুই ‘অনগোইং প্রসেসে’ রয়েছে বলে জানাচ্ছেন নেতারা। এই অস্থিরতা শেষ পর্যন্ত জোটের অস্তিত্ব নিয়েই প্রশ্ন তুলছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *